লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রমজানে মুনাফাবাজি নয়, আত্মশুদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: 18 ফেব্রুয়ারী 2026

107 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক মুনাফা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস, এ সময় মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সরকারপ্রধান দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানান। ভাষণের শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধির প্রকৃত চর্চা হলে রমজান মানুষের কষ্টের কারণ হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর রমজানকে ঘিরে বাজারে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবণতা দেখা যায়। এ প্রবণতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এ মাসকে ব্যবসায়িক লাভের সুযোগ হিসেবে না দেখে সংযম ও সহমর্মিতার সময় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি। সরকার অনাচার ও সিন্ডিকেট ভাঙতে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের যেকোনো পরামর্শ ও অভিযোগ শোনার আশ্বাস দেন তিনি।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার একটি কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্থিতিশীল করার কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি; কোনো রাজনৈতিক প্রভাব নয়, বিধিবদ্ধ নিয়মেই চলবে সব প্রতিষ্ঠান।
রমজান মাসে রোজাদারদের ইফতার, তারাবিহ ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। অপচয় রোধ ও কৃচ্ছ্রসাধনকে ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও দলের সংসদ সদস্যদের দিয়েই কৃচ্ছ্রসাধনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি বা প্লট সুবিধা নেবেন না। এটিকে ন্যায়পরায়ণতার আদর্শের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। সহজ, সুলভ ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমবে এবং পরিবেশের উন্নতি হবে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে হলে মেধা ও জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে হবে। শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, যারা ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি, সবার সরকার হিসেবেই কাজ করতে চায় বর্তমান প্রশাসন। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান—এ বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

রমজানের প্রাক্কালে দেওয়া এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সংযম, ন্যায়পরায়ণতা ও জবাবদিহিতার বার্তা তুলে ধরেন। তার আহ্বান, পবিত্র এই মাস হোক সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের চর্চার সময়।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman