লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ধর্ষণ আইনের ক্ষেত্রে ছোট বড় বিভাজন নেই, সব অপরাধই সমান গুরুত্বের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: 16 জুন 2026

8 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

জাতীয় সংসদে ধর্ষণ ও দুর্নীতির মতো অপরাধকে একই কাঠামোয় মূল্যায়নের ওপর কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে কোনো ধর্ষণকে ছোট বা বড় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিটি ঘটনার বিচার সমান গুরুত্বে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫ ২০২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আলোচনার সময় তিনি ধর্ষণকে সর্বোচ্চ সামাজিক ও আইনি গুরুত্বের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ ধরনের অপরাধে কোনো রকম শিথিলতা দেখানো হবে না।

মন্ত্রী বলেন, ধর্ষণ অপরাধ হিসেবে সব ক্ষেত্রে সমান। কোনো ঘটনায় অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমানভাবে দায়ী। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একটি ঘটনার বিচার চাওয়া আর অন্য ঘটনার ক্ষেত্রে নীরব থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এতে ন্যায়বিচারের মৌলিক ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংসদে বক্তব্যের সময় তিনি বিরোধী দলের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ঘটনায় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের সময়সীমা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সরকার সেই ঘটনায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে বলে জানান তিনি।

এই প্রসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য ও মানবিক অপরাধ ইস্যুকে আলাদা করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, অপরাধের বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করা হলে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীরা ক্ষতির শিকার হন।

আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে মূল আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানান। স্পিকার মনে করিয়ে দেন, আলোচ্য বিষয় ছিল দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত বাজেট ছাঁটাই প্রস্তাব।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রেও উচ্চ বা নিম্ন ধরনের আলাদা সংজ্ঞা নেই। আইনে সব ধরনের দুর্নীতি একই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে ধর্ষণকেও ছোট বড় ভাগে ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া উচিত। যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রেই দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

হাসপাতাল, প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, ভুক্তভোগীদের দ্রুত সুরক্ষা দেওয়া এবং বিচার প্রক্রিয়াকে কার্যকর রাখা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman