দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম সরকারি মালয়েশিয়া সফর। সফরে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সঙ্গে রয়েছেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত দুটি দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হবে। ২২ জুন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, জনশক্তি রপ্তানি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনও চাওয়া হবে।
মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি চীন সফরে যাবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে ২২ জুন কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হয়ে সেদিন সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
