দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রিকশাচালক তুহিন হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে উপস্থিত হন আইভী। তাঁর আদালতে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রাঙ্গণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ সময় তিনি ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না’ বলে স্লোগান দেন।
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তুহিন হত্যা মামলায় পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং আইভীর পুনরায় জামিনের আবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারিত ছিল। শুনানিতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা তুহিন হত্যা মামলায় মোট ৯৯ জনকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে এক নম্বর আসামি এবং সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ১১ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় রিকশাচালক তুহিনের মৃত্যুর ঘটনায় করা হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন তুহিন। পরে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা একাধিক মামলায় আইভীর নাম রয়েছে। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতে জামিন পাওয়া অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।
তুহিন হত্যা মামলায় পুনরায় জামিনের আদেশের ফলে আইভীর বিরুদ্ধে থাকা অন্য কোনো মামলায় আটক বা আইনি বাধা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পৃথকভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তাই এই আদেশের ভিত্তিতে তাঁর মুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
