দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের বরাতে জানা যায়, সেখানে একাধিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানি বাহিনী ও বাণিজ্যিক ট্যাংকারগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, একটি ভারতীয় পতাকাবাহী ভিএলসিসি সুপারট্যাংকার প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি তেল বহন করছিল। জাহাজটির ক্যাপ্টেনের অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, তারা প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তবে ইরানের নৌবাহিনী জানায়, ওই সময়ে এই জলপথ দিয়ে নতুন কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি নেই।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী স্পষ্টভাবে ট্যাংকারগুলোকে সতর্ক করে দেয় যে প্রণালিতে নতুন করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রচারিত নাম নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি না হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরে এমন উত্তেজনা বিশ্ব তেল বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বড় শক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থান বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
সূত্র: The Telegraph, Reuters
