লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ইরানের হামলায় সৌদিতে ধ্বংস মার্কিন নজরদারি বিমান

প্রকাশিত: 29 মার্চ 2026

31 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বোয়িং ই থ্রি সেন্ট্রি এডব্লিউএসি এস নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যে এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গ, আল জাজিরা ও এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ পরিচালিত সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের আল খারজ অঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে কয়েকটি মার্কিন সামরিক প্ল্যাটফর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি ই থ্রি সেন্ট্রি আকাশভিত্তিক সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনলাইনে প্রকাশিত ধ্বংসাবশেষের ছবিতে বিমানটির লেজ নম্বর ৮১ ০০০৫ শনাক্ত করা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টিংকার এয়ার ফোর্স বেসে অবস্থিত ৫৫২তম এয়ার কন্ট্রোল উইংয়ের অধীনে পরিচালিত ছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম অঞ্চলে এ ধরনের বিমান খুব সীমিত সংখ্যায় মোতায়েন ছিল। ফলে একটি হারানো কৌশলগত দিক থেকে বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অন্যান্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং একাধিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

ই থ্রি সেন্ট্রি এডব্লিউএসি এস বিমানকে আকাশের “চোখ” বলা হয়। বিশাল রাডার ডোমের মাধ্যমে শত শত কিলোমিটার দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান শনাক্ত করে এটি যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ড ও সমন্বয় পরিচালনা করে। বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনীর হাতে এ ধরনের মাত্র ১৬টি বিমান সক্রিয় ছিল বলে জানা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও উচ্চমূল্যের সামরিক সম্পদ লক্ষ্যবস্তু হওয়া আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

ইরানের এই হামলা প্রতীকী ও কৌশলগত দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সংখ্যক এডব্লিউএসি এস বিমান হারানো মানে আকাশ নজরদারি সক্ষমতায় সাময়িক দুর্বলতা তৈরি হওয়া যা ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

সূত্র: Bloomberg, Al Jazeera

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman