দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর মোড় এলাকায় আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে মিরপুরের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এই অবরোধে যোগ দেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
শ্রমিকেরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, ভাড়া, শিশুর শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ বিবেচনায় বর্তমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবি জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবারও একই দাবিতে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। সেদিন সকাল ১০টার দিকে কয়েকটি পোশাক কারখানার কয়েক শ শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
দুই দিন পর শনিবার আবারও একই জায়গায় অবরোধ করা হয়। শ্রমিকেরা বলছেন, তাঁদের দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জাহিদুল ইসলাম জানান, পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
এর আগে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছিলেন, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে শ্রমিকেরা মিরপুর ১০ নম্বরের সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পোশাকশ্রমিকেরা বলছেন, মাসের শেষে বেতন পাওয়ার পরও সংসারের মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়ি ভাড়া, বাজারদর, শিশুর পড়ার খরচ ও চিকিৎসা ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে তাঁরা ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন।
শ্রমিকনেতারা বলছেন, পোশাক খাত দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই খাতের উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু বেতন কাঠামো এখনও জীবনযাত্রার বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
অবরোধের কারণে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকে গণপরিবহনের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
পুলিশ বলছে, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দাবি মানার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
