লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

এইচএসসিতে শতভাগ পাস মাত্র ১৩৯ প্রতিষ্ঠানে, গত বছর ছিল ৩৪৫

প্রকাশিত: 31 অক্টোবর 2026

1 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় দেশের মাত্র ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৪৫। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ২০৬টি। একই সঙ্গে সামগ্রিক পাসের হারও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এবার সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এ বছর দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।

এ বছর মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে। গত ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পরীক্ষার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হয়।

জিপিএ-৫ ও পাসের হারে বড় পতন
ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এবার শুধু সামগ্রিক পাসের হারই কমেনি, সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত বছর যেখানে ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাছে এ ফলাফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। তবে পাসের হার কমার নির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

একইভাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, সেগুলোর ফলাফলও আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান, শিক্ষকসংকট, উপস্থিতি এবং শিক্ষার পরিবেশের মতো বিষয়গুলো মূল্যায়ন করলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে।

ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ
প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনপ্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে জানা যাবে।

সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়া এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি দেশের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlemaç izletaraftarium24canlı maç izlemaç izle