দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানিবাহী কয়েকটি জাহাজ নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারায় বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও সরকার জানিয়েছে, আপাতত বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এটি প্রকৃত সংকট নয়, বরং আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার ফলেই সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং আরও কয়েকটি আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানি সূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৪ দিনের ডিজেল মজুত ছিল। বর্তমানে জ্বালানি মজুতের চিত্র অনুযায়ী ডিজেল দিয়ে প্রায় ১৪ দিন, অকটেন ৯ দিন, পেট্রোল ১১ দিন, জেট ফুয়েল ২৩ দিন এবং ফার্নেস তেল প্রায় ২৯ দিন সরবরাহ চালানো সম্ভব। কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুত তুলনামূলক বেশি, যা যথাক্রমে ৪৬ ও ৪৪ দিন পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
এদিকে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আরও ১৭ থেকে ১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান বিলম্বিত হলে উৎপাদনে চাপ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে তিনটি বড় চাপ কাজ করছে: আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা, জাহাজ আগমনে বিলম্ব এবং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সরকার স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির রুট ও উৎস বৈচিত্র্য না বাড়ালে বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব বারবার অর্থনীতি ও বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে।
