দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সংগীত, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক উদযাপন। সেই ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলোর একটি কলম্বিয়ার বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী শাকিরা। দুই দশক ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের উপস্থিতি দিয়ে তিনি যে নজির গড়েছেন, তা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেও বিরল।
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপের সময় শাকিরার সংগীত বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তার পরিবেশিত ‘ওয়াকা ওয়াকা’ (This Time for Africa) বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় গান হিসেবে স্থান করে নেয়।

২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার সংগীত এবং মঞ্চ পরিবেশনা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
এবার ২০২৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপ উপলক্ষে আবারও শাকিরার নাম বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ২০ বছরের ব্যবধানে চারটি পৃথক বিশ্বকাপ চক্রে তার উপস্থিতি ও প্রভাব ফুটে উঠেছে। খুব কম শিল্পীই এমন দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আসরের সঙ্গে নিজেদের নাম যুক্ত রাখতে পেরেছেন।
সংগীত বিশ্লেষকদের মতে, শাকিরার সাফল্যের মূল কারণ তার বৈশ্বিক আবেদন। লাতিন, পপ এবং বিশ্বসংগীতের মিশ্রণে তিনি এমন একটি ধারা তৈরি করেছেন যা ভাষা ও ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ফলে বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনের সঙ্গে তার নাম বারবার ফিরে এসেছে।
ফুটবল ও সংগীতের এই অনন্য সংযোগের কারণে অনেক ভক্তই মনে করেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে শাকিরা শুধু একজন শিল্পী নন, বরং একটি যুগের প্রতীক। ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিস্তৃত এই যাত্রা তাকে আধুনিক ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

