লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

যেভাবে আমরা রমজানের বরকত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি

প্রকাশিত: 24 ফেব্রুয়ারী 2026

122 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । মতামত । মোঃ আকতার হোসেন (রুমী) |

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি পবিত্র মাহে রমজানের দুয়ারে। এই মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দান, যাতে গুনাহ মাফের দরজা খোলা, দোয়া কবুলের সময় বেশি, সওয়াবের পরিমাণ অসীম। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, আমরা অনেকেই এই অপার বরকতের মধ্যে থেকেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। পেয়েও হারাচ্ছি।

কেন এমন হচ্ছে? কারণ আমাদের কিছু অভ্যাস, কিছু অবহেলা এই মাসের ফজিলতকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আসুন আজ নিজেদের সামনে একটা আয়না রাখি এবং খোলাখুলি দেখি আমরা কোথায় কোথায় ভুল করছি:

১. সেহরি ছাড়া রোজা রাখাঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।” (সহীহ বুখারী ১৯২৩)। সেহরি শুধু খাবার নয়, এটা রোজার শক্তি, আধ্যাত্মিক বরকত ও আল্লাহর রহমতের দরজা। অথচ অনেকে ঘুম থেকে না উঠেই রোজা শুরু করেন।

২. ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রলিং, কিন্তু কুরআন খুলতে ক্লান্তিঃ রমজান কুরআন নাজিলের মাস। অথচ আমরা টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউবে সময় কাটাই, কিন্তু কুরআনের এক পারা তিলাওয়াত করতে অলসতা। রাসূল ﷺ বলেছেন, “দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—সুস্থতা ও অবসর।” (সহীহ বুখারী ৬৪১২)। রমজানে অবসর আছে, কিন্তু আমরা তা অপচয় করছি।

৩. সারারাত সোশ্যাল মিডিয়া, ফজরে জাগতে কষ্টঃ ফজর ছুটে যায়, তাহাজ্জুদ তো দূরের কথা। অথচ রমজানে রাতের শেষ প্রহরে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়।

৪. ইফতার শুরু করা দোয়া ছাড়াইঃ রাসূল ﷺ ইফতারের সময় বলতেন, “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু, বিরহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন”। অথচ আমরা খাবারে হাত দিই, দোয়া ভুলে যাই।

৫. শুধু বিপদে পড়লে দোয়াঃ রমজান দোয়ার মাস। কিন্তু আমরা শুধু দরকার পড়লে মনে করি আল্লাহকে। অথচ প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তে দোয়া করলে বরকত বহুগুণ বাড়ে।

৬. তারাবী তাহাজ্জুদকে বোঝা মনে করাঃ অনেকে তারাবীকে “দ্রুত শেষ করার” কাজ ভাবেন। অথচ রাসূল ﷺ শেষ দশকে ইবাদত বাড়িয়ে দিতেন, পরিবারকেও জাগাতেন (সহীহ বুখারী ২০২৪)।

৭. ইফতারের টেবিলে গীবত বেহুদা কথাঃ রাসূল ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি গীবত করে তার রোজা শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা ছাড়া আর কিছু পায় না।” (সহীহ বুখারী)। অথচ আমাদের ইফতারে গীবত, পরনিন্দা, হাসি-ঠাট্টায় সময় কাটে।

৮. বিলাসবহুল ইফতারসেহরিতে অপচয়, সাদাকায় কম মনোযোগঃ রমজান সাদাকার মাস। রাসূল ﷺ বলেছেন, “সাদাকা রোজাকে পানি দেয় যেমন পানি আগুন নিভায়।” (তিরমিযী)। অথচ আমরা খাবার নষ্ট করি, বিলাসী আয়োজন করি—কিন্তু গরিবের হাতে একটা ইফতার তুলে দিই না।

৯. শেষ দশককে সাধারণ রাত মনে করাঃ লাইলাতুল কদর এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম (সূরা কদর: ৩)। অথচ আমরা শপিং, ঈদের কেনাকাটা, সিরিয়াল দেখায় ব্যস্ত।

১০. রমজান শেষে কোনো আত্মিক পরিবর্তন না হওয়াঃ রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। যদি শেষে তাকওয়া না বাড়ে, নামাজের প্রতি ভালোবাসা না জন্মায়, গুনাহ থেকে বিরতি না আসে, তাহলে আমরা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত।

হয়তো এই রমজান আমাদের জীবনের শেষ রমজান। কে জানে আগামী বছর আমরা বেঁচে থাকব কি না? রাসূল ﷺ বলেছেন, “রমজান মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে উত্তম মাস, আর মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতির মাস।” (মুসনাদ আহমাদ—সহীহ সনদে)।

আসুন এবার সত্যিকারের সিদ্ধান্ত নিই:

  • সেহরি খাব, কুরআন তিলাওয়াত করব।
  • তারাবী-তাহাজ্জুদে দাঁড়াব।
  • সাদাকা করব, গীবত থেকে বাঁচব।
  • প্রতিদিন দোয়া করব।
  • শেষ দশকে লাইলাতুল কদর খুঁজব।

এই রমজানকে এমনভাবে কাটাই যাতে কবরের অন্ধকারে আলো হয়, কিয়ামতের দিন মুখ উজ্জ্বল হয়, আর জান্নাতে প্রবেশের দরজাগুল উন্মুক্ত হয়।

আল্লাহ আমাদের সকলকে এই রমজানের পূর্ণ বরকত দান করুন, গুনাহ মাফ করুন, তাকওয়া দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান বানান। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

ওয়া সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman