দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাঙ্গামাটির সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। টানা অবরোধ ও সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে পর্যটনকেন্দ্রটিতে তীব্র খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় পাহাড়ে উৎপাদিত ফলমূলও বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে চতুর্থ ধাপে অবরোধ শুরু করে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। পাঁচ দফা দাবির সমাধান না হওয়ায় এ কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, কর্মসূচি শুরুর ১২ দিন পার হলেও দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
এর আগে রোববার ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল। তবে সোমবার সকাল থেকে আবারও সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এতে সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অবরোধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। গত দুই দিনে কলাবুনিয়া ও দূরদুরিছড়ায় জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে দুই দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিয়মিত পণ্য পরিবহন সম্ভব না হওয়ায় প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ে উৎপাদিত ফলমূল সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় সেগুলো নষ্ট হচ্ছে। এতে স্থানীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের ১২তম দিনে বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক বন্ধ করা হয়েছে। তবে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, অবরোধ ও সংঘাত অব্যাহত থাকলে খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট আরও তীব্র হবে। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সাজেকের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অবরোধের কারণ ও পাঁচ দফা দাবির বিষয়ে দ্রুত সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সংঘাত বন্ধ করে নিরাপদ চলাচল ও পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
