লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বাংলাদেশের জন্য ভারতের দরজা বন্ধ, এবার পাকিস্তানে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

প্রকাশিত: 14 মে 2026

25 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ প্রশিক্ষণের প্রধান গন্তব্য ছিল ভারত। বিশেষ করে উত্তরাখণ্ডের মসুরিতে অবস্থিত লাল বাহাদুর শাস্রী ন্যাশনাল একাডেমী অফ এডমিনিস্ট্রেশন-এ নিয়মিত প্রশিক্ষণে যেতেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং চুক্তির অনিশ্চয়তার মধ্যে এবার প্রথমবারের মতো উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে পাকিস্তানে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ১২ জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা পাকিস্তানের লাহোর-এ অবস্থিত সিভিল সার্ভিসেস একাডেমীতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। গত ৪ মে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ চলবে ২১ মে পর্যন্ত। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত সচিব এবং ১১ জন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সফরের যাতায়াত, আবাসন ও প্রশিক্ষণ ব্যয়সহ পুরো খরচ বহন করছে পাকিস্তান সরকার। বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক ব্যয় এতে নেই। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গত এক দশকে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ছিল দৃশ্যমান। ২০১৪ সালে ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্নেন্স এর সঙ্গে বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে কয়েক দফায় চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েনে সেই কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের আর ভারতে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়নি। সর্বশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফর করেছিল।

অন্যদিকে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছিল। তবে অতীতে সে প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে এবং পরবর্তীতে নতুন সরকারের সময় আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের ভিত্তিতে এই সফর বাস্তবায়িত হয়।

প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই উদ্যোগ শুধু প্রশাসনিক নয়, কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। তারা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা উচিত। এতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক সক্ষমতাও উন্নত হবে।

বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সাবেক রেক্টর ও সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর মিল থাকায় ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের কাজে লাগতে পারে।

এদিকে ইন্ডিয়া নতুন করে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল এন্ড ইকোনোমিক কোঅপারেশন কর্মসূচির আওতায় মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কোর্সে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এবার প্রশিক্ষণ হবে বহুজাতিক কাঠামোয় এবং আগের মতো শুধু বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা আয়োজন থাকবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এখন প্রশাসনিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও কৌশলগত ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করছে। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

 

সূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, Pakistan Civil Services Academy

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman