দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) শনিবার রাতে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের সদর দপ্তরে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল বিস্ফোরণের পর ঘাঁটির ওপর কালো ধোঁয়ার স্তম্ভ উঠেছে এবং বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং IRGC-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র প্রত্যক্ষ প্রতিশোধ। বাহরাইন সরকার এই হামলাকে “বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ ও সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে নিন্দা করেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় জুফায়ার এলাকায় আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইরানি সূত্র দাবি করেছে, ৫ম ফ্লিটের সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এখনও বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে স্বীকার করেছে যে ঘাঁটিতে “উল্লেখযোগ্য ক্ষতি” হয়েছে। বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘাঁটির আশপাশের আবাসিক এলাকায়ও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে বড় ধরনের হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
বাহরাইনের এই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে নৌ-অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু। এখান থেকে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগরের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রায় ৮,৩০০ মার্কিন নৌসেনা এখানে মোতায়েন রয়েছে। ইরানের এই হামলা তাই শুধু একটি ঘাঁটির ওপর নয়, পুরো অঞ্চলের ভারসাম্যকেই চ্যালেঞ্জ করেছে।
বাহরাইনের সাধারণ নাগরিকরা আতঙ্কিত। অনেকেই রাতের আকাশে বিস্ফোরণ দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ নয়।” আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন উদ্বিগ্ন — জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক ডাকার দাবি উঠেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “আমাদের লাল রেখা অতিক্রম করলে আরও বড় প্রতিশোধ আসবে।” অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা “যথাযথ জবাব” দেবে।
সূত্র: বাহরাইন সরকারি বিবৃতি, ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া,
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। আপডেটের জন্য সতর্ক থাকুন।
