দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযানে সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি গাজার ধ্বংসস্তূপ দেখে নিজের সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেন এবং এটিকে ইসরাইলের পরিকল্পিত নিরাপত্তা নীতির অংশ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে উত্তর গাজায় নতুন করে ইসরাইলি উপস্থিতি জোরদার এবং সম্ভাব্য বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে গাজার ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসরায়েল কাৎজ বলেন, এটি দেখে তাঁর ভালো লাগছে। তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নয়, বরং গাজা থেকে নিরাপত্তা হুমকি দূর করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা একটি পরিকল্পিত সামরিক কৌশলের ফল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় অভিযান চালিয়ে ফিরে আসত। তবে বর্তমান কৌশলে সেনারা নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান বজায় রাখছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এভাবে ইসরাইল নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে চায়।
সাক্ষাৎকারে কাৎজ উত্তর গাজায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি-সংযুক্ত বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব স্থাপনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সহায়ক হবে। ২০০৫ সালে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা ও বসতি প্রত্যাহারের আগে ওই এলাকায় এ ধরনের স্থাপনা ছিল।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীর ও অন্যান্য অধিকৃত এলাকায় ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে আসছে। একই ধরনের পদক্ষেপ গাজায় নেওয়া হলে তা নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় এক লাখ ৭৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়নে গাজার অধিকাংশ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
গাজায় যুদ্ধবিরতি, জিম্মি বিনিময় এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও এখনো স্থায়ী সমাধান অর্জিত হয়নি। এ অবস্থায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ও উত্তর গাজায় সম্ভাব্য বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
