লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ইচ্ছাকৃত অবহেলা ছিল: মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী

প্রকাশিত: 16 জানুয়ারী 2026

362 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা ও দীর্ঘস্থায়ী অবহেলার কারণেই খালেদা জিয়ার লিভারের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাঁকে কার্যত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯–জনিত জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর থেকে তাঁর মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত পুরো সময়জুড়েই তিনি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে পান যে খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। অথচ এর আগের চিকিৎসা নথিতে তাঁকে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের জন্য নিয়মিত মেথোট্রেক্সেট নামের একটি ওষুধ সেবনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা লিভারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এফ এম সিদ্দিকীর ভাষ্য অনুযায়ী, মেথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও প্রয়োজন হলে আলট্রাসনোগ্রাম করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু লিভার ফাংশনের ফল খারাপ আসার পরও তৎকালীন সরকারি চিকিৎসকেরা ওষুধটি বন্ধ করেননি, এমনকি একটি সাধারণ আলট্রাসনোগ্রামও করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, “এটা কোনো জটিল রোগ ছিল না। একজন সাধারণ চিকিৎসকও লিভারের এই অবস্থা শনাক্ত করতে পারতেন। কিন্তু অবহেলার পর অবহেলা করা হয়েছে।”

‘স্লো পয়জন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেকে প্রশ্ন করেন, ম্যাডামকে কি ধীরে ধীরে বিষ দেওয়া হয়েছিল? আমার চিকিৎসক হিসেবে উত্তর হলো—মেথোট্রেক্সেটই তাঁর ফ্যাটি লিভার রোগকে সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে এটি তাঁর লিভারের জন্য স্লো পয়জন হিসেবে কাজ করেছে।”

শোকসভায় আবেগঘন কণ্ঠে এফ এম সিদ্দিকী বলেন, “আজ দেশের কোটি মানুষের বুকে এক গভীর আফসোস—যিনি সারাজীবন গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য লড়েছেন, তিনি যদি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো দেখতে পেতেন মানুষ আবার স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছে।”

তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এই অবহেলা একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটি কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এ জন্য তিনি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।

তদন্তের আওতায় তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি—কে বা কারা চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন, চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ রয়েছে কি না এবং কেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে দেওয়া হয়নি।

সরকারের কাছে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman