‘আজ এই মুহূর্তে আপনাদের কিছু দেওয়ার নেই আমার, আজ আপনাদের কাছে শুধু চাইবার আছে’। পৈতৃক জেলা বগুড়ায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ১৯ বছর পর এভাবেই নিজের ঘরের মানুষের কাছে আবেগঘন আকুতি জানালেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার নওগাঁর জনসভা শেষ করে তারেক রহমান যখন বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে পৌঁছান, ঘড়ির কাঁটা তখন মধ্যরাত। তবে সময়ের বাধা উপেক্ষা করে নেতাকে বরণ করে নিতে সেখানে আগে থেকেই ভিড় শুরু করেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘ঘরের মানুষের কাছে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে এবারের নির্বাচন দেশের জন্য বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’ ধানের শীষকে জয়ী করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বগুড়াবাসীকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক জীবনের লড়াইয়ে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমি এত রাতে মিটিং করছি, রাজনীতি করছি; আমার স্ত্রী যদি সহযোগিতা না করতেন, আমি কিন্তু পারতাম না। উনি আছেন বলেই আমি পেরেছি।’
উত্তরবঙ্গ সফরের শুরু থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন জুবাইদা রহমান। প্রচার গাড়ি থেকে জনসভার মঞ্চ- সবখানেই তাদের পাশাপাশি দেখা গেছে।
স্ত্রীর সহযোগিতার উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বগুড়াবাসীর সমর্থন চেয়ে বলেন, ‘আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, আমাকে মানসিক ভাবে শক্তি ও সমর্থন দেন, তবে ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে বাংলাদেশকে আমরা একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব।’
বগুড়ার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ‘বগুড়ার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন অন্যের অধিকার আমরা হরণ না করি।’
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের প্রেক্ষাপট আর বর্তমান সময় ভিন্ন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এবার শুধু নিজেদের কথা ভাবলে চলবে না, বগুড়াবাসীকে পুরো দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।’
এর আগে দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি পর্যবেক্ষক দল জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন। মধ্য রাতের এই জনসভায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
এমএ
