দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জুলাই বিপ্লব চলাকালে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল ২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৬ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মামলার গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন চট্টগ্রাম ৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু।
শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে দেন। এরপর আদালত গ্রেপ্তার আসামিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পাঠ করে শোনান।
বিচারক আসামিদের কাছে অভিযোগ স্বীকারের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার অপর ১৭ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ এবং সুমন দে।
মামলাটি জুলাই বিপ্লবের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত ছয়জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, অভিযোগ গঠন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি ধাপ। এটি কোনো আসামির দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমতুল্য নয়। মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে দায় নির্ধারিত হবে।
