দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশ করায় নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন উত্তর আটলান্টিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে প্রকাশিত ওই পোস্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে মেলোনিকে তার দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন’, যা অনেকেই ইতালির প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। একই সময়ে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে নিয়েও সম্পাদিত একটি ছবি প্রকাশ করেন।
এই পোস্ট এমন সময়ে এসেছে, যখন তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য উত্তর আটলান্টিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্মেলনের আগে এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ দুই মিত্র দেশের সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

দুই নেতার বিরোধের সূত্রপাত গত মাসে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত সাত দেশের সম্মেলনের পর। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী সেই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এমন দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং ইতালি কখনো কারও কাছে অনুনয় করে না। তার এই প্রতিক্রিয়ার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করেন।
মেলোনি আরও বলেন, ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও দেশের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেই সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও স্পষ্টভাষিতার ভিত্তিতেই টিকে থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যু, ইউরোপের নিরাপত্তা, জ্বালানি নীতি এবং উত্তর আটলান্টিক জোটের বিভিন্ন কৌশলগত প্রশ্নে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও মেলোনির অবস্থানের পার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে একসময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার বৈঠক এ বিরোধ প্রশমিত করতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের।
