দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জুলাই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা ছিল সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সেই নারীরাই যেন ধীরে ধীরে দৃশ্যপট থেকে মুছে যেতে বসেছেন। এই প্রশ্ন ও বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে ‘Women in the July Uprising: Essential Then—Why Erased Now?’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
ছবি মেলা আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসবের একাদশ আসরের তৃতীয় দিনে রোববার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই প্রদর্শনীর গাইডেড ট্যুর অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় নারীদের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও আন্দোলন পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক সমাজ টেকসই হতে পারে না। এই আলোকচিত্রগুলো নারীদের সাহস, সক্রিয়তা ও স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরেছে এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক পরিসরে তাদের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে।

ছবি মেলার প্রধান উপদেষ্টা শহীদুল আলম বলেন, মানুষ যদি গ্যালারিতে না আসে, তাহলে গ্যালারিকেই মানুষের কাছে যেতে হবে। সংসদ ভবনের পটভূমিতে এই প্রদর্শনী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

গবেষক ও আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া বলেন, আগস্ট ৫ এর পর নারীদের পরিকল্পিতভাবে আড়ালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু নারীর অবমূল্যায়ন নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পথে বড় বাধা।

২৫ জন আলোকচিত্রীর তোলা ছবিতে উঠে এসেছে আন্দোলনের সময় নারীদের সাহসী উপস্থিতি, ভয়, প্রতিরোধ এবং প্রত্যয়। ছবি মেলা একাদশ আসরে পাঁচটি ভেন্যুতে ১৬ দিনব্যাপী নয়টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসব চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
