লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

সাত দফা দাবিতে শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, অংশ নেবেন ১৯ জেলার নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: 30 অক্টোবর 2026

1 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কর্মসূচিতে ১৯ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন। আয়োজকদের আশা, লংমার্চের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের কথিত ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আগের দুটি লংমার্চের তুলনায় এবারের কর্মসূচি দীর্ঘতম হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। সকাল ৮টায় গাড়িবহর নিয়ে যাত্রা শুরু করার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি বহরে যুক্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাত দফা দাবির মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অন্যতম। তাঁর অভিযোগ, একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটির ফলের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও অন্যটির ফল কার্যকর করা হচ্ছে না। এতে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকার আন্তরিক হলে আগামী ৯ নভেম্বরের সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের উদ্যোগ নিতে পারে। এ বিষয়ে বিরোধী দল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ওই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের, বিশেষ করে যাঁরা এখনো গ্রেপ্তার হননি, তাঁদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস, সার ও অন্যান্য জ্বালানির সংকটের কার্যকর সমাধান না হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। একই সঙ্গে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধ ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ নিয়োগ, ডিলারশিপ বাণিজ্য ও দখলদারিত্ব বন্ধেরও দাবি জানায় ১১ দলীয় ঐক্য। মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, হাটবাজার, ঘাট, বালুমহাল, পরিবহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, চাঁদাবাজির ধরন একই থাকলেও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও রাজনৈতিক দলের নাম বদলেছে।

আয়োজকদের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, লংমার্চটি ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটের ফকিরহাট ও রূপসা সেতু হয়ে খুলনায় পৌঁছাবে। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

পথে ছয়টি স্থানে পথসভা আয়োজনের কথা রয়েছে। সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় প্রথম পথসভা হওয়ার কথা। সকাল ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা হবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে এবং বেলা ২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পরবর্তী দুটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড়ে এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে আরও দুটি পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় অংশ নেবেন লংমার্চের নেতাকর্মীরা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হয়েছে। ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

লংমার্চের কারণে মহাসড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে বলে স্বীকার করেন আয়োজকেরা। এ জন্য পথচারী, পরিবহনশ্রমিক, ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষের ভোগান্তি কমাতে মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করা হবে।

লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ধৈর্য, সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য, স্লোগান বা প্রতিপক্ষকে আঘাত করে এমন আচরণ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স ও গণমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানান আয়োজকেরা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। লংমার্চ সফল করতে দেশবাসী, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maç