লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

৮৭ টাকার মাল্টা বাজারে ৫২০ টাকা কেন?

প্রকাশিত: 01 অক্টোবর 2026

31 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বিদেশ থেকে কেজিপ্রতি প্রায় ৮৭ টাকা দরে আমদানি করা মাল্টা চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত। আমদানি মূল্য থেকে খুচরা দামের এই বিশাল ব্যবধানের পেছনে রয়েছে উচ্চ শুল্ক ও কর, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, পচনশীল পণ্যের ঝুঁকি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বর্তমান শুল্কতথ্য অনুযায়ী, তাজা কমলা ও মাল্টাসহ সংশ্লিষ্ট সাইট্রাস ফলের কয়েকটি শ্রেণিতে মোট করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কমলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক কাঠামোয় শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও অগ্রিম আয়কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অর্থাৎ আমদানিকারকের নির্ধারিত মূল্য যদি ১০০ টাকা হয় তবে শুধু শুল্ক ও কর যোগ হওয়ার পর এর মূল্য প্রায় ২২২ টাকায় পৌঁছাতে পারে। ফলে বিদেশের বাজারে ফলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বাংলাদেশে বন্দরে পৌঁছানোর পর এর মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বর্তমান শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী কমলা ও মাল্টার মতো ফলের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর রয়েছে। সবগুলো মিলিয়ে মোট করভার দাঁড়াচ্ছে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় বন্দরের বিভিন্ন মাশুল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা হিমায়িত পরিবহন, গুদামজাতকরণ, শ্রমিক ব্যয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পাঠানোর খরচ। মাল্টা পচনশীল হওয়ায় পরিবহন বা সংরক্ষণে ক্ষতি হলে সেই ব্যয়ের একটি অংশও শেষ পর্যন্ত বিক্রয়মূল্যের ওপর চাপ তৈরি করে।

তবে শুধু আমদানি ব্যয় দিয়েই বর্তমান বাজারদর ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে ফলের সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং বাজারের চাহিদাও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক ফল আমদানিতে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, এতে ফল আমদানি সহজ হবে এবং সরবরাহ বাড়ার মাধ্যমে ভোক্তাদের জন্য দাম কিছুটা সহনীয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ফল আমদানির সামগ্রিক প্রবণতাতেও করভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ফল আমদানির পরিমাণ বাড়লেও উচ্চ শুল্ক, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং বাজারের বাড়তি চাহিদার কারণে খুচরা পর্যায়ে তার সুফল পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বাজারে পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য বলে ওই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্প্রতি পণ্যভিত্তিক আমদানি তথ্য আরও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে পণ্যের আমদানি পরিমাণ, মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে দেশের বাজারের তুলনা করা সহজ হওয়ার কথা।

মাল্টার ক্ষেত্রে তাই ৮৭ টাকা থেকে ৫২০ টাকা হওয়ার পুরো ব্যবধানকে শুধু ব্যবসায়ীর মুনাফা হিসেবে দেখা যায় না। আবার পুরো বাড়তি মূল্যকেও শুধু শুল্ক ও কর দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। আমদানি মূল্য থেকে বন্দরে খালাস, পরিবহন, পচনজনিত ক্ষতি, পাইকারি লেনদেন এবং খুচরা বিক্রির প্রতিটি ধাপে কত টাকা যুক্ত হচ্ছে সেটিই প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট করবে।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। শুল্ক ও কর কমানো হলে আমদানিকারকের খরচ কমতে পারে। কিন্তু সেই সুবিধা ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে কি না তা নির্ভর করবে বাজারে প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং খুচরা পর্যায়ের নজরদারির ওপর। একইভাবে আমদানি সহজ হলেও যদি সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকে তাহলে বাজারদর দ্রুত কমবে এমন নিশ্চয়তাও নেই।

ফলে ৮৭ টাকার মাল্টা কেন ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এর উত্তর খুঁজতে হলে শুধু আমদানিকারকের মুনাফা নয়, পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের হিসাব প্রকাশ করা প্রয়োজন। আমদানি মূল্য, শুল্ক ও কর, বন্দর ব্যয়, পরিবহন, নষ্টের হার, পাইকারি মূল্য এবং খুচরা মুনাফা আলাদা করে প্রকাশ করা গেলে ভোক্তার ওপর বাড়তি মূল্যের প্রকৃত উৎসও পরিষ্কার হবে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlemaç izletaraftarium24canlı maç izlemaç izle