দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ দেশে ফিরেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনের ঘটনায় প্রাণ হারান ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক। দুর্ঘটনার পর তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগায় তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিলম্ব হয়।
ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত
অগ্নিকাণ্ডে বাকি সাত শ্রমিকের মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় প্রথম দিকে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
নিহত সাতজনের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁ জেলার বাসিন্দা এবং দুজন নাটোর জেলার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার মো. শাহিন, আত্রাই উপজেলার মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব ও মো. সাগর আলী। অন্য দুজন হলেন নাটোরের মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ পৌঁছানোয় দেশে তাঁদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মরদেহ শনাক্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘ অপেক্ষার অভিজ্ঞতা।
রিয়াদ থেকে জেদ্দা হয়ে ঢাকায় মরদেহ
রিয়াদ থেকে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো দেশে আনার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় প্রথমে সড়কপথে মরদেহগুলো রিয়াদ থেকে জেদ্দায় নেওয়া হয়। পরে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে সেগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়।
শনিবার সকালে ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে গত ৯ আগস্টের ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের সবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁদের পাঠানো অর্থে উপকৃত হয় পরিবার ও দেশ। কিন্তু কর্মস্থলে দুর্ঘটনা কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় প্রাণহানির শিকার হলে তাঁদের পরিবারকে গভীর শোকের পাশাপাশি নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
রিয়াদের এই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
নিহত শ্রমিকদের মরদেহ দেশে ফিরলেও তাঁদের পরিবারগুলোর ক্ষতি অপূরণীয়। প্রিয়জন হারানোর এই শোকের মধ্যে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
