দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে তিনটি পুলিশি গাড়িতে করে দীপকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যান। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে, বেলা ৩টার দিকে মামলাটির রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের জন্য দীপকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত রিমান্ডের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা শুনানি শেষে জানা যাবে।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা করার পর দীপকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে তাঁকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। মামলা দায়েরের পর তাঁকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় নৌ পুলিশ। তদন্তকারীরা এখন ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
তবে মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা হবে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান এলাকার তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন স্থান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। নৌ পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা প্রথমে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করলেও মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পর হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এরপর দীপকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তদন্ত শুরু করে নৌ পুলিশ।
তদন্তকারীদের লক্ষ্য এখন তাহসিফের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তিনি কীভাবে তুরাগ নদের কাছে পৌঁছেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
