লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রূপপুরে প্রথম ইউনিটের পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু, গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে বাকি পরীক্ষা

প্রকাশিত: 30 অক্টোবর 2026

3 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইউনিটটিতে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগোল।

এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম ইউনিটকে পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। আগের ধাপের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনার পর এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু হওয়া মানেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়া নয়। গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার আগে আরও কয়েকটি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে চুল্লির ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। এ সময় চুল্লি, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ ‘বি-২’ পর্যায়ের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া যায়। এর আগে ‘বি-১’ পর্যায়েও চুল্লির প্রাথমিক কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানো হয়।

পাওয়ার স্টার্টআপের পরবর্তী কার্যক্রমে চুল্লির ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। চুল্লি থেকে উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে বাষ্প তৈরি করা হবে। সেই বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ পর্যায়ে চুল্লির ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা একসঙ্গে ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কার্যক্রম এগোবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে সময়সূচি নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও এগোচ্ছে। এই ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ চুল্লিতে প্রাথমিকভাবে জ্বালানি স্থাপনের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম।

রোসাটমের ২৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাইবেরিয়ার নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস কারখানায় তৈরি জ্বালানি বিশেষায়িত কার্গো বিমানে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর জ্বালানিবাহী কনটেইনারগুলো নির্ধারিত সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।

চুল্লিতে স্থাপনের আগে প্রতিটি জ্বালানি উপাদানের কারিগরি পরীক্ষা করা হবে। এ কাজে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই জ্বালানি স্থাপনের পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রথম ইউনিটের পাওয়ার স্টার্টআপ এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে কেন্দ্রটির নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিচালনা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত পরীক্ষা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সফল সংযোগ স্থাপন এখনো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে রয়েছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maç