দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর রমনা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা মডেল থানা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাহিদুল ইসলাম অনিক (২১) ও শিহাব হোসেন (১৯)। তাঁদের কাছ থেকে চারটি তাজা ককটেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সোয়া সাতটার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মগবাজারের নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ককটেলগুলো পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে নিষ্ক্রিয় করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক আটটার দিকে রমনা মডেল থানার আওতাধীন রমনা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে মগবাজারের নয়াটোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনিক ও শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় তাঁদের হেফাজত থেকে চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। জননিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।
তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, উদ্ধার করা ককটেলগুলোর সঙ্গে আগের বিস্ফোরণের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিস্ফোরক আইনে করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরক ব্যবহারের ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য, ব্যবহৃত বিস্ফোরকের উৎস এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তাঁদের অপরাধের দায় আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
