লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

লগি-বৈঠা সহিংসতার ২০ বছর: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন ও বায়তুল মোকাররমে যা ঘটেছিল

প্রকাশিত: 28 অক্টোবর 2026

0 Views

The Civilians News

পাল্টা-পাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর ঢাকার পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক । বিবিসি বাংলা ।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকা রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে লাঠি-সোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সেদিন প্রকাশ্যে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যা তৎকালীন গণমাধ্যমে ‘স্তম্ভিত’ করে তোলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হন। সারা দেশে সেদিনের সহিংসতায় প্রায় এক ডজন মানুষ প্রাণ হারান এবং শতাধিক আহত হন। সহিংসতা পরের কয়েক দিনে ছড়িয়ে পড়ে এবং মোট প্রায় দুই ডজনের মতো মানুষ নিহত হন।

রাজনৈতিক অচলাবস্থার পটভূমি

চারদলীয় জোট সরকারের (বিএনপি-জামায়াতসহ) মেয়াদ শেষের দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন—এই ইস্যুতে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। সংবিধান অনুযায়ী সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করার বিধান ছিল। তৎকালীন সরকার সাবেক প্রধান বিচারপতি কেএম হাসানকে চাইছিল। আওয়ামী লীগ ও মিত্ররা তা মানতে রাজি হয়নি। তারা অভিযোগ করে যে হাসান একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাকে বসিয়ে জোট আবার ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে।

২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়েছিল। বিরোধীরা বলেন, হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা বানানোর জন্যই এটা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ হুঁশিয়ারি দেয়—হাসানকে বসানো হলে তারা লাগাতার হরতাল-অবরোধ দিয়ে দেশ অচল করে দেবে। বিএনপি-জামায়াত পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বিবিসিকে বলেছিলেন, “পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে।”

দফায় দফায় সংলাপে বসেও তখন সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা
দফায় দফায় সংলাপে বসেও তখন সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনীতিকরা দুই পক্ষকে সংলাপের আহ্বান জানান। বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল অন্তত ছয় দফায় বসেন। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ নির্বাচন-কেন্দ্রিক ইস্যুতে একমত হতে পারেননি।

২৭ অক্টোবর: সরকারের শেষ দিন

২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি জোট সরকারের সাফল্য তুলে ধরে আবার ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান এবং সংবিধান অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দেন। রাত ১২টার পর অষ্টম জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হয়।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা করে। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা আগেই বলেছিলেন—কেএম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা বানানো হলে লগি-বৈঠা হাতে সারা দেশ থেকে ঢাকার পথে রওনা হতে হবে। ২৭ অক্টোবর রাতে আব্দুল জলিল অবরোধ ঘোষণা করেন এবং ২৮ অক্টোবর পল্টন ময়দানে সমাবেশের ডাক দেন। সারা দেশ থেকে লগি-বৈঠা হাতে কর্মীরা রাতেই রাস্তায় নামেন।

বিএনপি নয়াপল্টনে এবং জামায়াত বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ ঘোষণা করে। পুলিশ পল্টন ও আশপাশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলেও কোনো দলই তা মানেনি।

২৭ অক্টোবর থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাজীপুরে বিএনপি-জামায়াতের দুই স্থানীয় নেতা নিহত হন। ঢাকার খিলগাঁওয়ে গুলিতে এক পথচারী নিহত হন। বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বাড়ি, গাড়ি ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালনের অভিযোগ ওঠে।

ঢাকায় সেদিন প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল, যার কিছু ছবি প্রকাশ করে দ্য ডেইলি নিউ এজ
ঢাকায় সেদিন প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল, যার কিছু ছবি প্রকাশ করে দ্য ডেইলি নিউ এজ

২৮ অক্টোবর: পল্টনের রক্তাক্ত দিন

ভোরের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা হাতে ঢাকায় জড়ো হন। পল্টন ময়দান পুলিশের দখলে থাকায় তারা গুলিস্তান ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আশপাশে অবস্থান নেন এবং ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ বানান। জামায়াত ও শিবির বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকে লাঠি-সোটা নিয়ে অবস্থান নেয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ অস্থায়ী মঞ্চ সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। ইট-পাটকেল, ককটেল ও রাবার বুলেট চলে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে পল্টনের দিকে এগোতে চেষ্টা করেন। পরে তারা মুক্তাঙ্গনের সামনে মঞ্চ বানিয়ে ভাষণ দেন।

দুপুরের দিকে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে প্রধান সংঘর্ষ শুরু হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল, গুলি ও ককটেলের শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। এক ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জামায়াত দাবি করে তিনি ছাত্রশিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলাম মুজাহিদ। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং পরদিন পত্রিকায় ছাপা হয়।

প্রকাশ্যে মুখে কাপড় বেঁধে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী মঞ্চে উঠলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অন্তত ১২টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। জবাবে জামায়াত-শিবির কর্মীরা ছাদ থেকে অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। নিউ এজ পত্রিকায় দুই পক্ষেরই অস্ত্রধারীর ছবি ছাপা হয়। দৈনিক সংগ্রাম ও নয়াদিগন্ত আওয়ামী লীগের দিকেই অস্ত্রধারীদের অভিযোগ করে। ইত্তেফাকে এক শিবিরকর্মীর মরদেহের ছবি ছাপা হয়।

ঢাকায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন—জামায়াত চারজনকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে, একজনকে ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মী বলা হয়। শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যাত্রাবাড়ীসহ আরও কয়েক জায়গায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

পরবর্তী ঘটনা

কেএম হাসান প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। আড়াই মাস পর ১১ জানুয়ারি ২০০৭ জরুরি অবস্থা জারি করে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে, যা ‘ওয়ান-ইলেভেন সরকার’ নামে পরিচিত।

সেদিনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর করে তোলে এবং পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24selcuksportstaraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24taraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24selcuksportscanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçcanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izle