কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. তানজিম ছারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একইসঙ্গে নয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা পৃথক অস্ত্র মামলায় ১৩ জনকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড করেছে। উভয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ জনকে খালাসের রায়ও দেয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজারেরর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় প্রদান করেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খোরশেদ আলম চৌধুরী ও বাদিপক্ষের প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এ তথ্য জানান।
উভয় আইনজীবী জানিয়েছেন, মামলার রায় প্রদানকালে ১২ জন অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতি প্রতিরোধ ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা পালাতে চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩) তাদের ধাওয়া করেন এবং একপর্যায়ে ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর মধ্য রাতে সেনা বাহিনীর ফাঁসিয়াখালী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদি হয়ে ডাকাতি ও হত্যা এবং পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। যেখানে ১৭ জনের নামোল্লেখসহ ২৫ জন আসামি ছিলেন।
২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পুলিশ তদন্ত শেষ করে ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
সেনা কর্মকর্তা হত্যায় ১৭ জনের নামে মামলা হলেও সেখান থেকে এই হত্যাকাণ্ডে ছয় জনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক তদন্তে এজাহারের বাইরে থাকা আরও সাত জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ার পর বিচার কার্য শেষে বুধবার আদালত এ রায় প্রদান করেন।
লেফটেন্যান্ট তানজিমের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন।
