লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার, আমিরাত ৩০ দিনের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে

প্রকাশিত: 15 জুন 2026

3 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়। লন্ডন থেকে এশিয়ার কোনো দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় দুবাইয়ের ট্রানজিটে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আমিরাত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ তাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রত্যর্পণ অনুরোধ জানাতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১২ জুন দুবাই পুলিশ ইন্টারপোলের সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো ঢাকাকে চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে দেশটির ফেডারেল আইন অনুসারে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ছাড়েন। দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা দায়ের করে। অভিযোগ রয়েছে যে তিনি বিভিন্ন জেলায় বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করেছেন এবং ব্যক্তিগত নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

ইন্টারপোল ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। এর ভিত্তিতেই দুবাইয়ে তার অবস্থান শনাক্ত হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আমিরাতের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। আদালত দেশটির ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬ এর ১১ নম্বর ধারা অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশকে যেসব নথি জমা দিতে হবে তার মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তের বিস্তারিত তথ্য ও ছবি, মামলার ধারা ও সর্বোচ্চ শাস্তির বিবরণ, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র। সব নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে স্বাক্ষর ও সিলমোহরসহ জমা দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এটিকে পুলিশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন বলে অভিহিত করা হয়েছে। বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে কোনো অপরাধী দেশের বাইরে গিয়েও দায়মুক্ত থাকতে পারবে না। বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক এ প্রক্রিয়াকে সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman