দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এবং ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র এবং ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টি রাজধানী ঢাকায়।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে দেশের সব কেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কোনো কেন্দ্রে নকলের ঘটনা প্রমাণিত হলে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
এবারের পরীক্ষায় ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী বেশি। মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, আর আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবার প্রায় ৭ লাখ ২৪ হাজার ২১০ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। যা মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর প্রায় ৪৩ দশমিক ৩১ শতাংশ।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, অভিন্ন প্রশ্নপত্রের কারণে দেশের কোনো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সারা দেশের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যৌক্তিক কারণে কোনো পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রে পৌঁছালে কেন্দ্রসচিব ও স্থানীয় প্রশাসনকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হবে। এরপর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
