লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি, ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত ৭৬ হাজার

প্রকাশিত: 13 সেপ্টেম্বর 2026

7 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে। রোববার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ওই ঘাঁটিতে হামলার দাবি নিয়ে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

হুথিদের এই দাবি এমন এক সময়ে এলো যখন ইয়েমেনে কয়েক বছরের তুলনামূলক স্থবিরতার পর আবার বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর মোখা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে কৌশলগত মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হুথিদের অগ্রযাত্রার জবাবে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। শনিবার মোখা ও তাইজ এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে সরকারি বাহিনী। এদিকে হুথিরা দাবি করেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরবের ১২৯টি বিমান হামলা হয়েছে। এই দাবির স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্ভব হয়নি।

এরই মধ্যে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জাজান এলাকায় হুথিদের ছোড়া একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কথা জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে দুজন আহত হয়েছেন। একটি মসজিদসহ কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, জুলাই থেকে ইয়েমেনে নতুন করে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। অনেক পরিবার রাতের অন্ধকারে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালাচ্ছে।

মোখা দখলের পর বহু মানুষ দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেনের দিকে পালিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ ইয়েমেনি জিবুতিতেও আশ্রয় নিয়েছে বলে দেশটির অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ে ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চেয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার ফোনে কথা বলে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্প সরাসরি সামরিক অভিযানে যেতে রাজি হননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

লোহিত সাগরের এই সংঘাতের প্রভাব শুধু ইয়েমেন বা সৌদি আরবেই সীমাবদ্ধ নয়। বাব আল-মান্দাব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লে জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক পণ্যের পরিবহন ব্যয় নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে।

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের বর্তমান অধ্যায়ের শুরু ২০১৪ সালে হুথিদের রাজধানী সানা দখলের মধ্য দিয়ে। ২০১৫ সালে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা কমে এলেও সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সেই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আবার বড় আকারে ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman