দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে অতীতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাবে। তবে এর জন্য আলাদা কোনো ‘ক্লিন হার্ট’ ধরনের অভিযান নেওয়া হচ্ছে না।
২০০২ সালের অক্টোবরে তৎকালীন সরকার অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছিল। ওই অভিযানে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ৮৫ দিনব্যাপী ওই অভিযানে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হচ্ছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, সহিংসতা ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়েও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়েও কথা বলেন। ডিসেম্বরকে ঘিরে কোনো ‘অপশক্তি’ অপতৎপরতা চালাতে পারে বলে সরকার মনে করে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশস্থলে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে আটক করার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারের সামনে এখন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অতীতের বিশেষ অভিযানের অভিজ্ঞতায় হেফাজতে মৃত্যু ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের পদ্ধতি হবে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধ দমন করা। তবে এই সমন্বিত অভিযানের কাঠামো, কোন কোন বাহিনী এতে যুক্ত থাকবে এবং অভিযান পরিচালনায় কী ধরনের নজরদারি থাকবে, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিস্তারিত জানানো হয়নি।
