দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর অনুলিপি কারা মহাপরিদর্শক এবং গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়কের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
২০ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বরও ইনুকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে তাঁর অপরাধের ধরন ও কারাবিধির একটি বিধানের উল্লেখ করে ডিভিশন দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
সর্বশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে নির্দেশনা পাঠানো এবং কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা এক বিষয় নয়। ইনু ইতিমধ্যে প্রথম শ্রেণির ডিভিশনের সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো স্বতন্ত্র তথ্য পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছিল
কারাগার সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনুর স্ত্রী আফরোজা হকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে ডিভিশন দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গত ৪ অক্টোবর গাজীপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠান। সেখানে বলা হয়, ইনু বর্তমানে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বন্দী রয়েছেন। এর আগে তিনি কেরানীগঞ্জের বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার সময় ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে প্রথম শ্রেণির ডিভিশনের সুবিধা ভোগ করছিলেন।
তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর ক্ষেত্রে কারাবিধির ৬১৭(১) বিধান অনুযায়ী ডিভিশন দেওয়া সমীচীন হবে না। ওই প্রতিবেদনে অপরাধের ধরন ও দণ্ডের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারাবিধি অনুযায়ী ইনুর অনুকূলে প্রথম শ্রেণির ডিভিশন দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের আগের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে নতুন নির্দেশনার সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
কী কী সুবিধা পাবেন প্রথম শ্রেণির ডিভিশনে
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশনা কার্যকর হলে ইনু কারাগারে কয়েকটি বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে খাটসহ আলাদা কক্ষ, টেবিল, চেয়ার, তোশক, বালিশ ও প্রয়োজনীয় বিছানাপত্র। সাধারণ বন্দীদের তুলনায় আলাদা খাবারের ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তেল, চিরুনি ও আয়না রাখার সুযোগও এর অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া বই ও পত্রিকা পড়া, পড়াশোনা এবং বিনোদনের সুযোগ পাওয়ার কথা রয়েছে। সহায়তার জন্য একজন পুরুষ বন্দীকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে দেখা করার সুযোগ পাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ড
গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। প্রতিটি অভিযোগে তাঁকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ার নির্দেশ থাকায় তাঁর মোট কারাদণ্ড দাঁড়ায় ১০ বছর। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ই আপিল করেছে। ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন করে। অন্যদিকে ১৪ অক্টোবর ইনুর আইনজীবী খালাস চেয়ে আপিল করেন। ফলে মামলার চূড়ান্ত পরিণতি এখনো বিচারাধীন।
কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার বিষয়টি তাই শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারাবিধির প্রযোজ্য বিধান, বন্দীর যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কিত। ইনুর ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্রঃ আমার দেশ
