দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাদারীপুরের রাজৈর থানার বদরপাশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় সোহাগ ফকিরের সম্পৃক্ততা পাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুর রাজৈর থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোনসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে এর আগেও একাধিক সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল প্রশ্নফাঁসের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর।
এই ঘটনায় জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। সোহাগ ফকিরের গ্রেপ্তারের ফলে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নষ্ট করে। চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে। কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সিআইডির সাইবার ইউনিট প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করছে। গ্রেপ্তারকৃতের কাছ থেকে জব্দকৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তারের পর সোহাগ ফকিরকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সম্পৃক্ততার মাত্রা এবং অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস একটি গুরুতর অপরাধ। এতে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর স্বপ্ন ভেঙে যায়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এ ধরনের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ উদ্বেগজনক।
তদন্ত সংস্থাগুলো এ ধরনের চক্র ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রশ্নফাঁস রোধে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে এ ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
সোহাগ ফকিরের গ্রেপ্তার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
