দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পাকিস্তানের নৌবাহিনী নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি জাহাজ-বিদ্ধংসী অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ‘স্ম্যাশ’ (SMASH), যা জল ও স্থল উভয় লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম ও ম্যানুভারেবিলিটি বৈশিষ্ট্যে সজ্জিত। পরীক্ষায় নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফসহ জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। এটি পাকিস্তানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনীর অবিচল অঙ্গীকারের প্রমাণ।

পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে পাকিস্তানের সবচেয়ে উন্নত ফ্রিগেট PNS টিপ্পু সুলতান (F-280), যা টাইপ ০৫৪এ/পি ক্লাসের। এই ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার, যা আরব সাগরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় জাহাজ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রথম উদাহরণ। বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী এমন ক্ষেপণাস্ত্রে দক্ষ।
এই পরীক্ষা মে মাসের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী ফাতাহ-৪ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (৭৫০ কিমি রেঞ্জ) পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ইউনিট ও বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী যারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ তিন বাহিনীর প্রধানরা।
ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের ‘এ২/এডি’ (অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া ডিনায়াল) কৌশলকে শক্তিশালী করবে, যা আরব সাগরে ভারতীয় নৌযুদ্ধক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। পাকিস্তানের এই অগ্রগতি চীনের সঙ্গে যৌথ প্রযুক্তি স্থানান্তরের ফল বলে মনে করা হচ্ছে।
