দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার বাতাস আবার বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। IQAir-এর রিয়েল-টাইম ডেটা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে PM2.5 ঘনত্ব নিয়মিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নিরাপদ সীমা (৫ মাইক্রোগ্রাম/কিউবিক মিটার বার্ষিক গড়) ছাড়িয়ে গেছে। ১১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ৩য় স্থানে ছিল, যেখানে AQI ১৫২ ছাড়িয়ে ২০৩ পর্যন্ত উঠেছিল, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ স্তর। ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত AQI ১৩৯-এ পৌঁছেছে, যা ‘খারাপ’। এমনকি রাজশাহী (AQI ১৬৭) ও খুলনা (১৫৭) এখন ঢাকাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
প্রধান কারণগুলো:
– ইটভাটা, রিরোলিং মিল, রিসাইক্লিং কারখানা ও ক্ষুদ্র শিল্প থেকে কালো ধোঁয়া
– পুরনো ডিজেল যানবাহনের ধোঁয়া (যানবাহন থেকে ৩০% PM2.5)
– নির্মাণকাজের ধুলো ও বর্জ্য, কৃষি অবশিষ্ট পোড়ানো
– শিল্প থেকে বছরে ১৯,০০০ টন PM2.5 নির্গমন
WHO-এর মতে, এমন বাতাসে দীর্ঘমেয়াদি এক্সপোজার লাঙ্গ ক্যান্সার, হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক ও প্রিটার্ম বার্থের ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশে এটি গড়ে ৫.৫ বছরের লাইফ এক্সপেকটেন্সি কমিয়ে দেয়। বাচ্চা, বয়স্ক ও শ্বাসরোগীদের জন্য বিপদ সবচেয়ে বেশি। সাম্প্রতিক রিপোর্টে শ্বাসকষ্ট, কিডনি ও কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার কেস বেড়েছে।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড সীমিত। কিন্তু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি:
– কালো ধোঁয়া ও পুরনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ (ইমিশন স্ট্যান্ডার্ড কঠোর করা)
– নির্মাণস্থলে ধুলো কন্ট্রোল (ওয়াটার স্প্রে, কভারিং)
– বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ (কঠোর শাস্তি) এবং বিকল্প ব্যাবস্থা নিশ্চিৎ করা।
– IQAir-এর সাজেশন: ঘরের বাইরে মাস্ক পরা, জানালা বন্ধ রাখা, ঘরের ভেতর বাতাশ পিউরিফাইয়ার ব্যবহার করা।
সামগ্রিকভাবে ঢাকার বাতাস রুটিন মনিটরিং, বিস্তৃত নীতি (যেমন ক্লিন এয়ার, অ্যাকশন প্ল্যান) ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে না। শীতকালে দূষণ আরও বাড়বে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শহরবাসীর স্বাস্থ্য বিপন্ন হবে।
