দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। রয়টার্স এর খবরে বলা হয়, শনিবার ভোরে শুরু হওয়া হামলার প্রথম ধাক্কাতেই তারা প্রাণ হারান।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে আসা অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরায়েল এ অভিযানের নাম দিয়েছে অপারেশন লায়ন’স রোর, আর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর একে অপারেশন এপিক ফিউরি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
হামলার সময় তেহরান, ইসফাহান ও কোমে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা IRNA জানিয়েছে, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানায় অন্তত ৫১ শিক্ষার্থী নিহত ও আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে। তবে এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিরাপদ স্থানে আছেন বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
হামলার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘোষণা দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিলেও তেহরান একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় পড়বে।
সূত্র: Reuters, IRNA, Al Jazeera, BBC, CNN
