লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া: কোথাও শোক, কোথাও উল্লাস

প্রকাশিত: 01 মার্চ 2026

43 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–র মৃত্যুসংবাদ দেশজুড়ে সৃষ্টি করেছে তীব্র বৈপরীত্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। ৩৬ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নেতার মৃত্যুতে কেউ শোকে ভেঙে পড়েছেন, আবার কেউ এটিকে ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন।

রোববার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়। আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয় সম্প্রচারে। ঘোষণার পর রাজধানী তেহরান এর প্রধান চত্বরে কালো পোশাকে হাজারো মানুষকে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। দেহলোরান শহরে খামেনির ভাস্কর্য উপড়ে ফেলার দৃশ্য দেখা গেছে। ইজেহ ও কারাজ এ মানুষকে রাস্তায় নাচতে দেখা যায়। দক্ষিণের গাল্লেহ দার শহরে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির একটি স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার খবরও পাওয়া গেছে।

এক ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “আমি কি স্বপ্ন দেখছি? নতুন পৃথিবীকে স্বাগতম।”

এদিকে রয়টার্সকে ইসফাহানের এক নারী বলেন, তিনি খুশিতে কাঁদছেন এবং আশা করছেন খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটবে। তবে শিরাজ এর এক স্কুলশিক্ষিকা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদেশি শক্তির হাতে নেতার মৃত্যু দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

মাশহাদ এর এক তরুণ শিক্ষার্থী প্রতিশোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের বর্তমান সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিপরীতে তেহরানে শোকমিছিলে অংশ নেওয়া সমর্থকরা প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছেন।

খামেনির দীর্ঘ শাসনকাল ১৯৯৯, ২০০৯ এবং ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনসহ একাধিক গণবিক্ষোভের সাক্ষী। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হয়। তার অনুপস্থিতিতে ইরানে জমে থাকা ক্ষোভ ও আনুগত্যের আবেগ নতুন করে রাজপথে বিস্ফোরিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman