দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশ অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে এবং এর সরাসরি প্রভাব আসন্ন জাতীয় বাজেটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও এর অর্থনৈতিক চাপ দেশকে বহন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে, যা আগামী বাজেট পরিকল্পনায় নতুন হিসাব যোগ করবে। এ বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, সংস্থাটির শর্তগুলো দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী জুলাইয়ে পরবর্তী রিভিউ বৈঠকে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে এবং এর অংশ হিসেবে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণের কিস্তি ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার এবং কর-জিডিপি অনুপাত এখন বড় চাপের মুখে। এসব খাতে সংস্কার, ডিরেগুলেশন, ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার প্রতিফলন আসন্ন বাজেটে দেখা যেতে পারে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সংযমী হতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্য অস্থির থাকলে আমদানি নির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি ও ভর্তুকির চাপ বাড়তে পারে। ফলে আগামী বাজেটে রাজস্ব আহরণ ও ব্যয় পুনর্বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
