দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে বি ৫২ কৌশলগত বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘাঁটিটি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের গ্লস্টারশায়ার কাউন্টিতে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে মার্কিন দূরপাল্লার বোমারু অভিযানের প্রধান ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ ও সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বি ৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমানগুলো সম্প্রতি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন করা হয় এবং চলমান ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে। এসব বিমান দুই হাজার পাউন্ড ওজনের স্যাটেলাইট নির্দেশিত পেনিট্রেটর বোমা বহনে সক্ষম, যা শক্তিশালী সুরক্ষিত স্থাপনা বা ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। হামলার সময় এসব বোমা সাধারণত লক্ষ্যবস্তুর আট থেকে চব্বিশ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে নিক্ষেপ করা হয় বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘপাল্লার আকাশ হামলা জোরদার করেছে। ইউরোপভিত্তিক ঘাঁটি ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনার ফলে মার্কিন বাহিনী সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় দীর্ঘ সময় অবস্থান না করেও হামলা চালাতে পারছে। এতে অপারেশনাল ঝুঁকি কমলেও সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে বি ৫২ ও বি ১ বোমারু বিমানের একযোগে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আকাশ অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পৃক্ততা সংঘাতকে আরও আন্তর্জাতিক মাত্রা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে যে বিদেশি ঘাঁটি থেকে হামলা পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট এখন আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহার করে দূরপাল্লার বোমারু অভিযান শুরু হওয়া সংঘাতের নতুন ধাপ নির্দেশ করছে। এতে সামরিক চাপ বৃদ্ধি পেলেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: Fox News, Reuters
