দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঢাকার কারওয়ান বাজারের ব্যস্ত সড়কে দুপুরের রোদ তখন তীব্র। মানুষের ভিড়, যানজট আর গরমের মধ্যেই হুইল চেয়ারে বসে থাকা কিশোর আলামিনকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা। সামনে টিসিবির ট্রাক। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি চলছে সেখানে।
জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছে আলামিন। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল। বাবা একটি দোকানে চাকরি করেন, আর ছেলেকে দেখাশোনা করতেই সময় চলে যায় মায়ের। ফলে তার আলাদা করে কাজ করার সুযোগ নেই।
সেদিন বাজার করতে এসেছিলেন মা-ছেলে। কিন্তু বাজারের উচ্চমূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিসের সবকিছু কেনা সম্ভব হয়নি। ফেরার পথে টিসিবির ট্রাক দেখে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে যান। রোদের মধ্যে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখে অন্য ক্রেতারাই মানবিকতা দেখিয়ে আলামিন ও তার মাকে আগে পণ্য নেওয়ার সুযোগ করে দেন।
আলামিনের মাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এত কষ্টের মধ্যেও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কেন লাইনে দাঁড়াতে হলো। শান্ত গলায় তিনি বলেন, “বাসায় ওরে দেখার মতো কেউ নাই, আর ঘরে বাজারও দরকার ছিল।”
তিনি আরও জানান, এর আগে কখনো এমন লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়নি তাদের। হয়তো প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সংকোচ কিংবা বাস্তবতার চাপে আসা হয়নি।
পণ্য কেনা শেষে মগবাজারের দিলু রোডের ছোট্ট একরুমের বাসায় ফিরে যান তারা। নিজের পরিবার নিয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাননি আলামিনের মা। কিন্তু তার নীরবতাই যেন বলে দেয় দীর্ঘদিনের অভাব, সংগ্রাম আর টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্প।
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় নিম্নআয়ের অসংখ্য পরিবার নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপে দিশেহারা। অনেকেই প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সহায়তামূলক কর্মসূচির লাইনে দাঁড়াতে পারেন না সামাজিক সংকোচ, শারীরিক অক্ষমতা কিংবা সুযোগের অভাবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো না গেলে সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ সহজে কমবে না।
