দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর বুকাভুতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৪ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আগুনে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে। আহত হয়েছে আরও বহু মানুষ। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, একটি বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুরাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয় আগুনের কবলে পড়ে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী এএফসি-এম২৩-এর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও রয়টার্স ও এপি-র প্রতিবেদনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নিশ্চিত করা সংখ্যা ২৪ জন। আহত ২৯ জনের চিকিৎসা চলছে। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। সরু পথে একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে যায় এবং পদদলনের শিকার হয়। কয়েকজন জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে। ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেকে অচেতন হয়ে পড়ে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, বিপুলসংখ্যক আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ায় চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুনের উৎসস্থল ও আশপাশের এলাকার অধিকাংশ স্থাপনা কাঠসহ দাহ্য উপকরণে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডে দুটি স্কুলের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুকাভু বর্তমানে এএফসি-এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গোষ্ঠীটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব কঙ্গো দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় আক্রান্ত। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থাও ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে।
স্কুলে অবস্থানরত শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
