দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক দুটি নিরাপত্তা অভিযানে দুই কমান্ডারসহ নয় সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে পেশোয়ারের আরমার এলাকায় কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের অভিযানে পাঁচজন এবং কুররাম জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আরও চারজন নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
পেশোয়ারের শামসাতু ক্যাম্প এলাকায় বৃহস্পতিবার কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের অভিযানে পাঁচজন নিহত হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ইমরান ওরফে আবদুল্লাহ নামে একজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসী হামলা ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তার মাথার মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিভাগটি।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পেশোয়ারে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে স্পর্শকাতর স্থাপনা, ইমামবাড়ি ও গির্জার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানের পর একটি সাবমেশিনগান, চারটি পিস্তল, দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড এবং একটি স্বনির্মিত বিস্ফোরক যন্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট।
নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইমরানের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তাকে রাজধানীর তারলাই ইমামবাড়িতে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায়ও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সেগুলো পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে কুররাম জেলায় ৮ সেপ্টেম্বর পরিচালিত পৃথক গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে চারজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিহতদের ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত করেছে। এই শব্দটি দেশটির সরকার ও সামরিক বাহিনী সাধারণত নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সদস্যদের বোঝাতে ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে।
এর আগে পেশোয়ারের বাদাবের এলাকাতেও কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের অভিযানে চার সশস্ত্র ব্যক্তির নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে একজনকে কমান্ডার হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ওই অভিযানে সাবমেশিনগান, পিস্তল, গ্রেনেড ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছিল।
পাকিস্তানে চলতি বছরে বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী সহিংসতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির সহিংসতায় মৃত্যুর প্রায় ৯৬ শতাংশই এই দুই প্রদেশে ঘটেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করেছে। তবে এসব অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।
