লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এর ৩৫তম দিন পর্যন্ত মার্কিনিদের এপিক লস

প্রকাশিত: 05 এপ্রিল 2026

28 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর ৩৫ দিন পর ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানশক্তির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও মিডিয়া প্রতিবেদন অনুসারে, এখন পর্যন্ত ২৫টির বেশি মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, AWACS, রিফুয়েলার ও ড্রোন অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মিসাইল-ড্রোন হামলার কারণে এই ক্ষতি বেড়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) একটি F-15E স্ট্রাইক ঈগল ইরানের ওপরে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে দুজন ক্রু ছিলেন; একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, অন্যজনের খোঁজে এখনও সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন চলছে। একই দিনে একটি A-10 থান্ডারবোল্ট II আক্রমণকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা (এখন পর্যন্ত):

  • ৪টি F-15E স্ট্রাইক ঈগল: ধ্বংস সাম্প্রতিক ইরানি হামলায়।
  • ১টি F-35 : গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত, মেরামতের অযোগ্য বলে ধারণা, — ইরানি মিসাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জরুরি অবতরণ।
  • ২টি E-3 সেন্ট্রি AWACS: একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস, একটি হালকা ক্ষতিগ্রস্ত। সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানি মিসাইল-ড্রোন হামলায়।
  • ১-২টি A-10 : একটি ধ্বংস, একটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত।
  • ২-৩টি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার: সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ মিশনে ইরানি মিসাইল আঘাত প্রাপ্ত।
  • ৪টির বেশি KC-135 রিফুয়েলার: একটি ধ্বংস, অন্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত, একটি ক্র্যাশে ৬ জন ক্রু নিহত।
  • ২০টির বেশি MQ-9 রিপার ড্রোন: ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষায় গুলি করে ভূপাতিত।
  • ১টি RQ-21 ব্ল্যাকজ্যাক ড্রোন: সম্পূর্ণ ধ্বংস।
  • ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী: ইরানি মিসাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে গেছে বলে ইরান দাবি করেছে।

এই ক্ষতির আর্থিক মূল্য ইতিমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। MQ-9 রিপার ড্রোনগুলোর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা যুদ্ধে ‘অ্যাট্রিটেবল’ (প্রতিস্থাপনযোগ্য) হিসেবে বিবেচিত হলেও, F-15, F-35 ও E-3-এর মতো উচ্চমূল্যের প্ল্যাটফর্মের ক্ষতি মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ যুদ্ধ চলাকালীন আর্মির চিফ অফ স্টাফ জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জসহ আরও দুজন জেনারেলকে বহিষ্কার করেছেন। এই পদক্ষেপকে অনেকে যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের অস্থিরতা বলে সমালোচনা করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সময়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন অপারেশনাল সমন্বয় ও মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন বিমানকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এখনও সব ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে কয়েকটি ঘটনা নিশ্চিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছেন, যুদ্ধের ‘কৌশলগত লক্ষ্য’ প্রায় সম্পন্ন এবং শিগগিরই শেষ হতে পারে। তবে ইরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ড্রোন ও রিফুয়েলারের ক্ষতি যুদ্ধের গতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে মার্কিন বিমানবাহিনীর সামগ্রিক শক্তি এখনও অনেক। যুদ্ধের ৩৬তম দিনে এই ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যখন স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত এটি মার্কিন সামরিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

 

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। আরও তথ্য পাওয়া গেলে আপডেট দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman