লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে জোর, ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়ায় সরকার

প্রকাশিত: 22 এপ্রিল 2026

4 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং দমনে এটি সরকারের বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। গড়ে বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে বলে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যে উঠে এসেছে। এই বিপুল অর্থ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকায় তা ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকংসহ ১০টি দেশকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে। বাকি দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনাও চলমান।

সরকার ‘Mutual Legal Assistance Treaty’ এবং ‘Mutual Legal Assistance Request’ কাঠামোর আওতায় তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং আইনি সহায়তা জোরদার করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

অর্থ পাচার রোধ ও সম্পদ উদ্ধারে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে পুলিশ সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা ইউনিট এবং শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের নির্দেশে জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। বিদেশে জব্দ হয়েছে আরও প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ। সব মিলিয়ে দেশে বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে রাখা হয়েছে।

পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি মামলায় রায় হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের অধীনে একটি বিশেষ স্টলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন গঠন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অর্থ পাচার একটি বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এবং ইন্টারন্যাশনাল মনেটারী ফান্ড এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন এবং বিদেশি বিচারব্যবস্থার জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত অর্থ ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman