লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

হাইফা তেল শোধনাগার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশিত: 30 মার্চ 2026

90 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফায় অবস্থিত একটি তেল শোধনাগার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে এতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। চলমান ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় এটি সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ হামলাগুলোর একটি।

ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার পর হাইফা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেন, উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিডে ক্ষতি “স্থানীয় এবং উল্লেখযোগ্য নয়” এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে।

দমকল ও উদ্ধার বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ শোধনাগারের দুটি স্থানে আগুন লাগায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরিবেশ পর্যবেক্ষণে বাতাসে বিপজ্জনক রাসায়নিকের উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হাইফা ও দক্ষিণাঞ্চলের আশদোদে অবস্থিত জ্বালানি স্থাপনাসহ একাধিক “সামরিক সহায়ক লক্ষ্যবস্তুতে” নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে আশদোদের স্থাপনায় আঘাত লেগেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

এই সংঘাতে জ্বালানি অবকাঠামো বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। গত বছর একই হাইফা শোধনাগারে হামলায় কয়েকজন নিহত হওয়ার পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল।

হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হতে পারে। তিনি হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়ারও দাবি জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েল, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সংঘাত এখন একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকলে শুধু সামরিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman