লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কেন্দ্রের শাসনের বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছে ইমরানের দল

প্রকাশিত: 13 অক্টোবর 2026

27 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির দাবি, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা মোকাবিলায় প্রদেশে কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আকরাম আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করবে দলটি। মহাসচিব সালমান আকরাম রাজার নেতৃত্বাধীন আইনি কমিটি আবেদনের খসড়া তৈরি করেছে। তবে আবেদনটি সুপ্রিম কোর্টে নাকি ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতে দাখিল করা হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

এর আগে প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে পেশোয়ার হাইকোর্টে একটি আবেদন দাখিলের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে ওই আবেদন এবং পিটিআইয়ের দলীয় আইনি উদ্যোগ একই কি না, তা স্পষ্ট নয়।

গত রোববার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেন। একই সঙ্গে ইমরানের দল পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে প্রদেশটি পিটিআইয়ের শাসনে ছিল। সিদ্ধান্তটির পর মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এবং তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে আগাম সতর্কতামূলকভাবে আটক করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এই পদক্ষেপের মধ্যেই ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ অভিমুখী দীর্ঘ পদযাত্রা চলছিল। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি এবং চিকিৎসা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে দলটি আন্দোলন করছে। প্রাদেশিক সরকার স্থগিত এবং নেতাদের আটকের পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পিটিআই। শেখ ওয়াকাস আকরামের ভাষ্য, দীর্ঘ পদযাত্রা শেষ হয়নি; বরং দলের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ ও অরক্ষিত সীমান্ত থাকা খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকার যথাযথ নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের।

সোমবার পেশোয়ারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বলেন, পর্যাপ্ত সম্পদ থাকলেও স্থানীয় সরকার নেতৃত্ব না দিলে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সফল হওয়া সম্ভব নয়। কেন্দ্রের দাবি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাদেশিক প্রশাসনের পরিবর্তে সরাসরি কেন্দ্রীয় তদারকি প্রয়োজন।

তবে পিটিআই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির নেতা ও সাবেক প্রাদেশিক অর্থমন্ত্রী তৈমুর ঝাগরা বলেন, ইমরান খানের মুক্তি এবং তাঁর চিকিৎসা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। সেই আলোচনা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে দর-কষাকষিতে পরিণত হওয়াকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।

নকভির দাবি, আলোচনার সময় প্রদেশের ১২টি জেলায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবে পিটিআই সম্মতি দিয়েছিল। তবে আকরাম এ দাবি নাকচ করে বলেন, দলটি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাঁর যুক্তি, সামরিক অভিযান জোরদার হলে সাধারণ মানুষকে এর মূল্য দিতে হতে পারে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সরকারের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সরকারটি খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বহু মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী এবং পাকিস্তানি তালেবান ও আফগান তালেবানের সঙ্গে তাদের যোগসাজশ ছিল। তবে এসব যোগসাজশের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পিটিআইও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

জরুরি অবস্থা জারির সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি কেন্দ্র ও পিটিআইয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধও এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার হস্তক্ষেপকে সাংবিধানিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ১২২ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন; আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৬৩। ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের হিসাবেও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রদেশটিতে সহিংসতাসংশ্লিষ্ট প্রাণহানি বেড়েছে। তবে নিরাপত্তা সংকটের দায় কার, তা নিয়ে কেন্দ্র ও পিটিআইয়ের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

আদালতে পিটিআইয়ের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দীর্ঘ পদযাত্রা অব্যাহত রাখার ঘোষণা পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না এবং আদালত জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসনের বৈধতা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত দেন, তা এখন দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24selcuksportstaraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24taraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24selcuksportscanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçcanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izle