ডয়চে ভেলে বাংলার বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দ্য সিভিলিয়ানস । বিশেষ প্রতিবেদন । সৌজন্যে : ডয়চে ভেলে বাংলা ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার, পুলিশ বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান নিয়ে ডয়চে ভেলে বাংলার মুখোমুখি হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ এই সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি, পুলিশের রাজনৈতিক অপব্যবহার বন্ধ, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সীমান্তবর্তী পুশব্যাক সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা, উগ্রবাদ দমন, সাংবাদিক নিরাপত্তা, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের জবাবদিহিতা, চাঁদাবাজী এবং নিজের গুম হওয়ার অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে মানবাধিকার সুরক্ষার সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডয়চে ভেলে: দর্শক, সবাইকে স্বাগত। ডয়চে ভেলের এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে আপনারা জানেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আপনাদের সামনে নিয়ে আসি এবং তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করি। আমার সঙ্গে এখন আছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ। আপনাকে স্বাগত আমাদের এই অনুষ্ঠানে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ: ধন্যবাদ।
ডয়চে ভেলে: আপনার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি। একটি আন্দোলন হলো, দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলো, এরপর একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলো। তারপর নির্বাচন হলো এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনারা সরকার গঠন করলেন। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে আপনারা একটি পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন। এখন সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপনার হাতে। এই মুহূর্তে আপনার সামনে কতটা চ্যালেঞ্জ?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: এটা আন্দোলন ছিল না, গণঅভ্যুত্থান ছিল। হাসিনার সরকার ছিল না, অবৈধ ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে। তারা পালিয়ে গিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী, জনতার দাবি অনুসারে তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
তারও একটি সাংবিধানিক বৈধতা আছে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। কত দিনের জন্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তার সময়সীমা ছিল না। কিছু বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভাইজরি রুল অনুসারে সরকার গঠিত হয়েছে। সেই কারণেই বৈধতার বিষয়গুলো সেখানে চলে এসেছে, যেগুলো নিয়ে ইদানীং প্রশ্ন হয়।
তারপরও এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকে সংবিধানে আবার বৈধতা দিতে হবে। সংবিধান সংশোধনের সময়ে আমরা চতুর্থ তফসিলে সেটা ধারণ করব বলে আশা করি।
এই সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তার মধ্যে প্রথম ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো, অতিভঙ্গুর পুলিশ প্রশাসন এবং সিভিল প্রশাসন—সবকিছু সামাল দিতে গিয়ে উপজেলা পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নিতে হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রিয়াল ক্ষমতাসহ সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সেখানে কাজ করেছেন। জেলা, বিভাগীয় পর্যায় ও মেট্রোপলিটন শহরসহ সর্বত্র তাঁদের মোতায়েন করা হয়েছিল, ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার হিসেবে। আইনের বিধান অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পুলিশের নৈতিক মনোবল আশানুরূপভাবে ফিরে আসেনি। এরপর একটি নির্বাচন হলো। বিশ্বস্বীকৃত, স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন হলো। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার, আমাদের ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের ওপর আস্থা স্থাপন করেছে।
নির্বাচিত সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা ভঙ্গুর পুলিশ ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করে তার নৈতিক মনোবল ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। আমরা অনেকাংশে সফল হয়েছি। কয়েক মাসের মধ্যেই উপজেলা পর্যায় থেকে সর্বত্র সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করেছি। পর্যায়ক্রমে জুন মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে সেই কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
এরপর পুলিশ বাহিনী সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করছে। জনগণ সেটা পর্যবেক্ষণ করছে। যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করতে পারছে, অভিযোগপত্র দিতে পারছে, তদন্ত শেষ করতে পারছে এবং প্রসিকিউশন ও আদালতকে সহায়তা করছে। এর মধ্য দিয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচারও দ্রুত শেষ হয়েছে।
ডয়চে ভেলে: বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলছেন। আগে পুলিশকে অনেক রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হবে না, সেটা নিশ্চিত করার জন্য কোনো কমিশন বা প্রতিষ্ঠান কিংবা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি আগে ছিল, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে, সেখান থেকে আমরা অনেকটা উত্তরে উঠেছি। পুলিশের পদক্ষেপ, তদন্ত প্রক্রিয়া, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া এবং বিচারিক সহায়তার মধ্য দিয়ে সমাজে এই আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে পুলিশ ক্রমান্বয়ে জনবান্ধব হয়ে উঠছে।
আপনার প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা—কাগজে প্রতিষ্ঠান, আইনে প্রতিষ্ঠান, কমিশনের প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা। জনগণ কিন্তু আইনের প্রতিষ্ঠান অনেক দেখেছে, কমিশন অনেক দেখেছে, সংস্কার কমিশন অনেক দেখেছে। এখন জনগণ কাজ দেখতে চায়।
এখন যদি পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার থাকত, তাহলে কি এই সাত-আট মাসে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং হতো না? এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স হতো না? কোনো কাস্টডিয়াল ডেথ হতো না?
আমরা এখন স্বচ্ছভাবে বলতে পারি, বুক টান করে বলতে পারি, আমাদের সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই সাত-আট মাসে শূন্য এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং, কোনো এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স নেই, কোনো গুম নেই এবং কোনো কাস্টডিয়াল ডেথ নেই।
আমরা কমিশন করিনি, ঠিকই। আমরা কাগজে আইন করিনি, ঠিকই। কিন্তু করব না, সেটা বলছি না। আমাদের কর্মকাণ্ড জনগণ দেখছে। আমরা যদি কমিশনও করতাম, আইনও করতাম, সংস্কারও করতাম, কিন্তু অপব্যবহার করতাম, তাহলে জনগণ আমাদের অন্যভাবে দেখত।
এখন জনগণ দেখছে, এই সরকার দায়বদ্ধ সরকার। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে পালন করছি।
পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার হচ্ছে না, অপব্যবহার হচ্ছে না—সেটা দৃশ্যমান। তারপরও পুলিশের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাব। সেই প্রতিশ্রুতি আমাদের আছে।
ডয়চে ভেলে: দৃশ্যমান অগ্রগতির জায়গা থেকে মানুষকে কি আপনি স্বস্তির আশ্বাস দিতে পারেন? কারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ: আমি বলছি, হত্যাকাণ্ড কয়টা, মব কয়টা, নারী নির্যাতন কয়টা, ডাকাতি কয়টা—এগুলো হচ্ছে সমাজের অপরাধচিত্রের সূচক।
খুনের ক্ষেত্রে একই সময়ের পরিসংখ্যান তুলনা করলে দেখা যায়, আগে ছিল ২ হাজার ৬১৯ বা ২ হাজার ৬৯—এখানে সংখ্যাটি যাচাই করা প্রয়োজন। আর এই সময়ে ১ হাজার ৫৮২। প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
মবের ক্ষেত্রে আগে ছিল ৫৪, বর্তমান সময়ে ১৬। ধর্ষণের ক্ষেত্রে আগে ছিল ৩ হাজার ৭৮, বর্তমান সময়ে ৩ হাজার ৫৭৮—এখানে কমলেও সংখ্যাটি অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে আরও উন্নতি হওয়া দরকার বলে আমরা মনে করি।
তবে এখানে একটা বিষয় দৃশ্যমান। আগে এ ধরনের মামলাগুলো কম রেকর্ড হতো। বর্তমান সময়ে মানুষ থানায় গেলেই মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। আওয়ামী লীগের সময়ে বিভিন্ন রকমের হস্তক্ষেপ ছিল। সে কারণে মামলা দায়েরের মাত্রা বেড়েছে।
তারপরও সংখ্যার দিক থেকে আমরা উন্নতি দেখছি। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেখলে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি বোঝা যাবে।
এর চেয়েও দৃশ্যমান হচ্ছে, পুলিশের এখন জবাবদিহি রয়েছে। কেউ যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে, বিভাগীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি মামলা করে জেলে পাঠানো হচ্ছে। অতীতে দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে এ ধরনের কার্যক্রম দেখা যায়নি।
কিছুদিন আগে একটি কল রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার কারণে সেটি পরীক্ষা করা হয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবার সম্পত্তি দখল-বেদখলের একটি ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার জন্য একজন ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উভয় ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। নিরপেক্ষভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পদ-পদবি বা দলের পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। সরকারি দলের কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি একজন সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যাওয়ার পর তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। চূড়ান্ত তদন্তে তাঁর নাম নাও আসতে পারে, কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সুতরাং সরকারি দল হলেই অপরাধ করে রক্ষা পাবে, সেই ধারণা এখন আর নেই। পুলিশ হলেই দায়িত্বে অবহেলার জন্য রক্ষা পাবে, সেই ধারণাও এখন নেই। অন্যদিকে পুলিশ যখন সাহসিকতা, দেশপ্রেম ও সেবার মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে, তখন তাকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে, পদক ও সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। এগুলো তার জীবনের অর্জন হবে এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বিবেচিত হবে।
ডয়চে ভেলে: জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। একই সময়ে পুলিশের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। এই দুই বিষয়কে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে কীভাবে মোকাবিলা করছেন? মানুষের আস্থা এবং পুলিশের নিজেদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কী করছেন?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: খুবই চমৎকার প্রশ্ন। এই প্রশ্নের মধ্যে একটা পার্থক্য টানতে হবে। কোনটা হত্যাকাণ্ড আর কোনটা যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনা, সেটা বুঝতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে কেউ নিহত হলে সেটা হত্যাকাণ্ড কি না, সেই প্রশ্ন আসে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে অনেক রাজাকার নিহত হয়েছেন। সে জন্য কি মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার হয়েছে? সেটা ছিল স্বাধীনতাযুদ্ধ।
এখানে গণঅভ্যুত্থানে জনগণের প্রতিরোধের মুখে যারা হামলাকারী নিহত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির একটি আইন পাস হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। আমরা সেটাকে আইনে পরিণত করেছি। এটাকে সাংবিধানিকভাবেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যাতে জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এ কারণে অপরাধের অভিযোগ এনে তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করা না হয়।
এবার পাল্টা প্রশ্নের উত্তর দিই। পুলিশের যেসব সদস্য নিহত হয়েছেন, তাঁরা সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন—এটা এক পক্ষের বক্তব্য। কিন্তু কোনো বাহিনীর সদস্যই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বেআইনি আদেশ মানতে বাধ্য নন। জনগণের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য কোনো সুপিরিয়র কর্মকর্তা আদেশ দিলে সেই আদেশ পালন করতে তিনি বাধ্য নন।
আর যারা পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানকারী ও জুলাই যোদ্ধারা নিহত হয়েছেন, তাঁদের বিচার জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের আদালতে চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত যেকোনো আদালতে বিচারপ্রার্থী হলে সেই বিচার চলবে।
আমরা প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করব। সেই প্রতিশ্রুতি আমাদের আছে। এই জাতির অঙ্গীকার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শহীদের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার আমরা করেছি। যাঁরা আহত হয়েছেন, দুই চোখের আলো হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, পুনর্বাসন করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের ওপর সংঘটিত অপরাধের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।
আমি আহত জুলাই যোদ্ধাদের দেখতে গিয়েছি। কারও শরীরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারও এক হাত চলে গেছে, কারও দুই চোখ চলে গেছে, কারও এক চোখ চলে গেছে, কেউ চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাঁদের অবস্থা দেখলে বোঝা যায়, তাঁরা কতটা কষ্টের মধ্যে আছেন।
প্রত্যেকটি ঘটনার জন্য আলাদা আলাদা এফআইআর করা হয়তো সম্ভব হবে না। কিন্তু একটি এফআইআরের অধীনে অনেক আসামি থাকতে পারেন। বিচারে তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হলে আইন অনুযায়ী সাজা পাবেন।
ডয়চে ভেলে: সীমান্তে পুশইন ও পুশব্যাকের বিষয়টি নিয়ে আপনারা কীভাবে কাজ করছেন? ভারত সরকারের সঙ্গে কিংবা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে এ সমস্যার সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এ বিষয়টি বেশি হয়েছে। তখন তাদের একটি রাজনৈতিক ইশতেহার ছিল বলে মনে হয়েছে। যারা সেখানে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে, তারা বাংলাদেশিদের পুশব্যাক করবে—এ ধরনের কথা বলেছিল।
সুতরাং তারা নির্বিচারে অনেক নিরীহ জনগণকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে সীমান্তে পুশব্যাক করানোর চেষ্টা করেছে। আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি, কূটনৈতিক চ্যানেলে কথা বলেছি। সীমান্তরক্ষী বাহিনী, তাদের বিএসএফ এবং আমাদের বিজিবি নিয়মিত বৈঠক করেছে, পতাকা বৈঠক করেছে। উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে।
আমাদের বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। আমরা অবৈধভাবে কাউকে পুশইন হতে দিইনি। তারপরও তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল।
আমরা অনুরোধ করেছি, যদি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে থাকেন বা অবস্থান করেন, তাহলে তাঁদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে সেটি যাচাই-বাছাই করা হবে। জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়ায় তাঁকে ফেরত আনা যেতে পারে।
এটি একটি চলমান আইনগত প্রক্রিয়া। একইভাবে অন্য দেশের যেসব নাগরিক বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ধরা পড়েন, তাঁদেরও আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাই। আমরা বারবার ভারতকে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণের অনুরোধ করেছি। তবে এখন বাংলাদেশে পুশইন করানোর প্রবণতা কমেছে বলে দেখা যাচ্ছে।
ডয়চে ভেলে: নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের আদালতে তাঁর বিচার চলছে। তাঁকে ফেরত আনার জন্য সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা এখান থেকে পালিয়ে গেছেন। তাঁদের ফেরত দেওয়ার জন্য আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অনুরোধ জানিয়েছি।
আমরা বারবার তাগাদা দিচ্ছি, কূটনৈতিক চ্যানেলে বক্তব্য দিচ্ছি। আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করতে আসছেন, তাঁদেরও বিষয়টি বলছি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য এসেছে। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিল্লিতে প্রেস ব্রিফিং করেন। এখানে তাঁদের হাইকমিশনারও কথা বলেন। তাঁরা কখনো বলেননি যে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবেন না। তাঁরা বলেছেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা আমাদের দাবি জোরালোভাবে জানিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, ভারত সরকার বিষয়টি অনুধাবন করবে এবং তাঁকে ফেরত পাঠাবে।
ডয়চে ভেলে: শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারতে একটি সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এরপর আলোচনা হয়েছে যে তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসতে পারেন। তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ঝুঁকি দেখছেন কি?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এটি একটি নতুন বাংলাদেশ। দেশের জনগণ ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান করেছে। সেই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী ও মাফিয়া গোষ্ঠী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতির এমন কোনো পরিবর্তন হয়নি যে বাংলাদেশের জনগণ আবার তাঁকে আহ্বান জানাবে। আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেনি, ক্ষমা চায়নি, নিজেদের দোষ স্বীকার করেনি। বরং গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনগণকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে।
সুতরাং তাদের রাজনৈতিক বৈধতা নেই। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত। তারা কখন বাংলাদেশে ফিরবে, সে বিষয়ে আমরা কোনো ভাষণ শুনতে রাজি নই। আমরা চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত তাঁর প্রত্যর্পণ চাই। তিনি যখনই ফেরত আসবেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। তাঁকে অবশ্যই আইনের হেফাজতে নেওয়া হবে। এরপর আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকলে তিনি সেই অধিকার পাবেন। সুযোগ না থাকলে আইন অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করা হবে।
আওয়ামী লীগের সবাইকে শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিছু লোক এখনো বিভিন্নভাবে পালিয়ে আছেন। তাঁরা দিনের আলোয় আসার চেষ্টা করছেন। তাঁদের মনোবল বাড়ানোর জন্য মাঝে মাঝে দিল্লিতে বসে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়। মুর্দা যতই কাফন ফুঁড়ে কথা বলুক, কাফন ফুঁড়ে বের হলেও সে মুর্দাই থাকবে। এসব কথায় আমরা মনোযোগ দিই না।
ডয়চে ভেলে: সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক উদ্ধার এবং জেএমবি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগসহ উগ্রবাদী সংগঠনের পরিকল্পনার খবর এসেছে। এগুলো কি বিচ্ছিন্ন তৎপরতা, নাকি এ ধরনের কার্যক্রম বাড়ছে?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: কিছু সহিংস তৎপরতা উগ্রবাদের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমরা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম খুঁজে পাইনি—এটাই আমার বক্তব্য। উগ্রবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু ব্যক্তি সহিংসতার পথ অনুসরণ করতে চাইতে পারেন। কিন্তু আমরা তাঁদের সফল হতে দিইনি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও দেব না।
আমাদের বিশেষায়িত ইউনিট, যেটিকে আগে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট বলা হতো, সেটিকে এখন স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট হিসেবে আরও উন্নত করা হয়েছে। তাদের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, প্রশিক্ষণ বাড়ানো হয়েছে, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। তারা এ ধরনের তৎপরতা দ্রুত শনাক্ত করতে এবং প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এভাবে আমরা দেশের মানুষকে উগ্রবাদী তৎপরতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও পারব বলে আশা করি।
ডয়চে ভেলে: সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলা ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। এই সরকারের আমলেও কিছু ঘটনা দেখা গেছে। এ বিষয়ে আপনারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে বলতে পারেন। যেমন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ছাত্রদলের ছেলেদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এসেছে। সে ঘটনার পর তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকরা আইনের আশ্রয় চাইলে মামলা দায়ের করতে পারেন। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং বিচার করা হবে।
এটাকে পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, সে ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে মামলা দায়ের করবেন। মামলা হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
ডয়চে ভেলে: তাহলে কি বলা যায়, এই সরকারের সময়ে সাংবাদিকরা কোনো ধরনের চাপ অনুভব করবেন না? সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের পক্ষ থেকে এমন কিছু করা হলে সেটি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কোথাও কোথাও আইন না মেনে কিছু হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু সেসব ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এ ধরনের দেশে নানা রকম সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা থাকে। সেখান থেকে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। কিন্তু কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডয়চে ভেলে: একটি অভিযোগ বারবার আসছে যে বিএনপির সংগঠক বা কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজিতে জড়িত। বিরোধী দল কিংবা বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার যখন এ ধরনের অভিযোগ তোলেন, তখন কি সরকার বিব্রত হয়?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: বিরোধী দল কী বলেছে, সেটা বিরোধী দল জানে। আমরা আইন অনুযায়ী চলব। কোনো জায়গায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে হামলা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে সমস্যা ছিল। তারা বেআইনিভাবে রাতে প্রবেশ করতে গিয়েছে, সেটি অপরাধ হয়েছে। ট্রিপল নাইনে পুলিশকে ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সাড়া দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, আলামত সংগ্রহ করেছে। পরবর্তী সময়ে এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় এফআইআরভুক্ত একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এখানে কোনো বৈষম্য করা হয়নি। কারও বাড়িঘর, দোকানপাট বা স্টুডিওতে হামলা হয়ে থাকলে মামলা দায়েরের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম মামলায় হয়তো এসব ঘটনার বিবরণ ছিল। পরে শুনেছি, এ বিষয়ে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। এর বেশি কিছু বলার নেই।
প্রত্যেকটি ঘটনার পেছনে বিরোধী দল বক্তব্য দিতে পারে। কিন্তু আমরা সেগুলোকে রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করব না। আইন অনুযায়ী তদন্ত হবে, আসামি গ্রেপ্তার হবে এবং আদালতে সোপর্দ করা হবে।
আরেকটি ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে একজন সংসদ সদস্যের নাম আসার পর তাঁকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে। আমরা সব ক্ষেত্রেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চাই।
কোনো ইনফ্লুয়েন্সার বা মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের বক্তব্য আমাদের কর্তব্য নির্ধারণ করে না। বিরোধী দলের সমালোচনা করার গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। আমরা গঠনমূলক সমালোচনাকে উৎসাহিত করি। শুধু সমালোচনা করার জন্য সমালোচনা না করাই উচিত।
ডয়চে ভেলে: আপনি দীর্ঘ সময় নির্বাসনে ছিলেন এবং গুমের শিকার হয়েছিলেন। এখন আপনি অন্য পাশে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে। আপনার অতীত অভিজ্ঞতা নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তাভাবনা এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি?
সালাহউদ্দিন আহমেদ: অবশ্যই। আমি যখন নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার ছিলাম, যখন গুমের শিকার হয়েছিলাম, তখন যে চিন্তা করেছি, এখন সেই চিন্তারই বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশে যেন কোনো দিন আর কাউকে গুম হতে না হয়, কেউ যেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন এবং কেউ যেন হেফাজতে মৃত্যুর শিকার না হন—সেই প্রতিশ্রুতি আমাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আমরা চেষ্টা করে যাব। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করব। প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্ত কমিশনকে তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানাব। আমরাও তদন্ত করব।
ডয়চে ভেলে: ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেওয়ার জন্য।
সালাহউদ্দিন আহমেদ: অসংখ্য ধন্যবাদ।
ডয়চে ভেলে: দর্শক, আপনাদেরও ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে এতক্ষণ থাকার জন্য। আমরা কথা বলছিলাম বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।
