দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মিরপুর এলাকায় ঝুলন্ত পরিত্যক্ত তার ও অপ্রয়োজনীয় ব্যানার অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, সাথে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে যুবদলের নেতা-কর্মীরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশনায় ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ধরে এ কার্যক্রম চলে। মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১০ গোলচত্বর পেরিয়ে শাহ আলী মার্কেটের সামনের এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সড়ক ও ফুটপাতের আশপাশে ঝুলে থাকা পরিত্যক্ত তার এবং অপ্রয়োজনীয় প্রচারণামূলক ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হয়।
কার্যক্রমে কাফরুল থানা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহীদ, ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বলসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ফুটপাতের আশপাশে ঝুলে থাকা পরিত্যক্ত তার, রাজনৈতিক ব্যানার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারের প্রচারণা এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন নগরীর সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। এসব উপকরণ সরিয়ে সড়ক ও ফুটপাতের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন করাই ছিল রাতের এ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।
শহিদুল ইসলাম শহীদ ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল জানান, মিরপুরের যেসব সড়ক ও এলাকায় এখনো অপরিকল্পিতভাবে ব্যানার ও পরিত্যক্ত তার ঝুলে রয়েছে, সেগুলো অপসারণে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের মতে, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে নিয়মিত উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতাও প্রয়োজন।
এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মিরপুর-১০ থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত মেট্রোরেলের স্তম্ভে থাকা পোস্টার ও প্রচারপত্র অপসারণের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবকেরা ওই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন। সংস্থাটির প্রশাসকও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং নগরবাসীর সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে মিরপুর বিআরটিএ থেকে শাহ আলী মার্কেট পর্যন্ত সর্বশেষ তার ও ব্যানার অপসারণের কার্যক্রমে কতটি তার বা ব্যানার সরানো হয়েছে, কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তত্ত্বাবধান ছিল কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে সড়ক ও ফুটপাতের পরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলও সহজ হতে পারে। তবে ঝুলন্ত তারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের সমন্বয় জরুরি। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি তারের ঝুঁকি কমানো এবং অনুমোদনহীন প্রচারসামগ্রী নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ।
