লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

যশোরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

প্রকাশিত: 27 জানুয়ারী 2026

39 Views

The Civilians News

ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, পাল্লার মাপে কোনো কম বেশি করবো না, যার যা প্রাপ্য অধিকার তা বুঝিয়ে দেবো।’

তিনি বলেন, ‘মামলা বাণিজ্য বিচার ব্যবস্থাকে হত্যার শামিল। জুলাই আন্দোলনের পর কেউ কেউ হাজার হাজার আসামি দিয়ে মামলা করেছে, হয়রানি করছে। আমরা বলেছি, প্রতিশোধ নেবো না। আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার সবার আছে। কিন্তু কোনো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা যাবে না। এ জন্য আমরা মাত্র ৮টি মামলা করেছি। মামলার আসামি সর্বোচ্চ ৯৮ জন।’

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে মহিলাদের গায়ে হাত, দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। এটিই বার্তা দেয়, তারা জিতলে কেউ নিরাপদ থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কে? যদি আমাদের কোনো কর্মী বা নেতা আচরণবিধি ভঙ্গ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। তারা যে শাস্তি দেবে, আমরা মাথা পেতে নেব। কিন্তু আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কে?’

জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, ‘জনগণের ভোটে পরাজিত হওয়ার ভয়ে কেউ কেউ ১০ দলের পক্ষে যেসব মা-বোনেরা নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে যাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে অমানবিক ও অভদ্র আচরণ করছে।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আপামর জনগণ আজ একত্রিত হয়েছে। এই বাংলাদেশ দুর্নীতিবাজ, দখলবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চিরতরে লাল কার্ড দেখাবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে, আর ‘না’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।’

যুবসমাজের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকের যুবসমাজ সেই বস্তাপঁচা রাজনীতি দেখতে চায় না। ৫৪ বছরে যে রাজনীতি বাংলাদেশকে অন্ধকার গলিতে ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং অন্য রাষ্ট্রের তাবেদারি করেছে, সেই রাজনীতি তারা আর চায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যেসব জনপ্রতিনিধি জয়ী হবেন, তারা কখনো সম্পদের পাহাড় বানাবেন না। তাদের সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না। প্রতি বছর নিজেদের এবং স্বজনদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে তারা বাধ্য থাকবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুবসমাজের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না, সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বেকার ভাতা মানে তাদের অসম্মান করা। একইসঙ্গে যারা চাঁদাবাজি করে ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাদের জন্যও আমরা কাজের ব্যবস্থা করব।’

যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

এছাড়াও, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, অঞ্চল টিম সদস্য ড. আলমগীর বিশ্বাস, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু, মাগুরা জেলা আমির এম বি বাকের, বিশিষ্ট আইনজীবী ও যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল কাদের, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে যশোরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভা ঘিরে বিপুল জনসমাগম দেখা যায়। ভোর রাত থেকেই যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দলে দলে শহরে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকেই ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জনসভায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে ছিল দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন। পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman